ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
BY  অনলাইন ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:১১ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের সারা দিন কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে সকালের নাস্তা। তাই রোজ সকালে পুষ্টিসমৃদ্ধ এক প্লেট নাস্তার কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত সকালের খাবার খান। অনেকেই আবার সকালে উঠেই তাড়াহুড়া করে অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। সময়ের সময়ে বেশিরভাগ সময়ই তারা খেয়ে যেতে পারেন না। কেউ কেউ আবার চটজলদি নাস্তা সারতে একটি আপেল কিংবা একটি কলা খেয়েই অফিসের দিকে পা বাড়ান। এই অভ্যাসটি কিন্তু মোটেই ভালো নয়। এতে উপকারের বদলে কিন্তু ক্ষতির শঙ্কাই বেশি।

কলার উপকারিতা

উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম বিদ্যমান থাকায় কলা পুষ্টিকর একটি খাবার। এর নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। কলা হার্ট ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসার এবং অন্যান্য অনেক সমস্যা থেকেও রক্ষা করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বাড়াতে এবং অ্যানিমিয়া দূর করতেও ভূমিকা রাখে কলা। কলায় শতকরা ২৫ ভাগ চিনি বিদ্যমান থাকে এবং এগুলো শরীরে শক্তি বাড়াতে ব্যয় হয়। কলাতে ট্রিপটোফ্যান, ভিটামিন বি, আয়রন এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে, যেগুলো শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই কাজগুলো শরীরে তখনই সম্পাদিত হয় যখন আপনি সঠিক সময়ে কলা খান। তা না হলে বিপদ।

খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?

পুষ্টিগুণের কারণেই অনেককেই সকালে খালি পেটে কলা খেতে দেখা যায়। তারা ভাবেন, অন্য অনেক খাবারের মতো এটিও শরীরে অনেক পুষ্টি জোগাবে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কলায় উচ্চ মাত্রার চিনি বিদ্যমান রয়েছে যা শরীরে শক্তি জোগাতে কাজ করে। তাই আপনি যদি সকালে খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পর বেরিয়ে যায়। এর ফলে আপনার অলসতা চলে আসে। সেই সঙ্গে আপনাকে অনেক ক্লান্ত মনে হয় এবং ঘুম ঘুম লাগে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় শুকনো কিছু খাবারের সঙ্গে কলা মিলিয়ে খাওয়া ভালো। তা না হলে খালি পেটে কলা খেলে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এতে কার্ডিওভাসকুলার রোগ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

আয়ুর্বেদার মতে, সকালে শুধু কলা নয়, বরং কোনো ফলই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এখনকার দিনে সতেজ কোনো ফল খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। এ ছাড়া ফলগুলোতে নানা রাসায়নিক থাকে। তাই সকালে খালি পেটে এসব খাবারের রাসায়নিকগুলো সরাসরি পেটে প্রবেশ করে। তখন পুষ্টি সরবরাহ করার বদলে এগুলো আমাদের শরীরে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে।

তাহলে আমরা কী করবো?

দিনের শুরুতে যে কোনো স্বাস্থ্যকর ফল বিশেষ করে কলা খাওয়ার অভ্যাস ভালো। কিন্তু আপনার অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর অন্য খাবারের সঙ্গেই এটি খেতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্য সমস্যা অনিবার্য।

সকালের নাস্তাকে অধিক পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ করে তুলতে করার নিচের রেসিপিগুলো কাজে লাগাতে পারেন-

ব্যানানা ওটমিল কুকিজ

সকালের নাস্তায় কলা ওটমিল কুকিজ একটি পুষ্টিকর খাবার। এই খাবারটি আপনার শরীরে শক্তি জোগাতে ভূমিকা রাখে। এক কাপ খাদ্যশস্য, ম্যাপল সিরাপ, বাদাম ও কলা নিন। এবার উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর এই খাবার।

বেরি ব্যানানা সিরিয়াল

চটজলদি সকালের নাস্তার আরেকটি বিকল্প হতে পারে বেরি ব্যানানা সিরিয়াল। এ জন্য একটি বাটিতে হালকা গরম দুধ স্লাইস করে কাটা কলা এবং কয়েক টুকরা বেরি যোগ করুন। এর পর উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল সকালের সুস্বাদু নাস্তা।

চকলেট ব্যানানা স্মোথি

স্মোথি খেতে সবাই বিশেষ করে বাচ্চারা অনেক পছন্দ করেন। সাধারণত বিভিন্ন ফল ব্লেন্ড করে এই স্মোথি তৈরি করা হয়। কাজেই সকালের নাস্তায় আপনিও চকলেট কলার স্মোথি খেতে পারেন। এ জন্য এক গ্লাস দুধ, কোকোয়া পাউডার এবং স্লাইস করে কাটা কলার টুকরা মেশান। এর পর উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলুন। এই খাবারটি অনেকক্ষণ পর্যন্ত আপনার ক্ষুধা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।