ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
BYফিচার ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫৭ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১০:৩০

ত্বককে দাগহীন, সুস্থ রাখার চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. ফারিয়াল হক ও ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত সুস্থ-সুন্দর ত্বক সবারই কাম্য। ত্বক সুস্থ-সুন্দর ও দাগহীন রাখতে বর্তমানে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বের হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোডার্মাব্রেশন, কেমিক্যাল পিল, মেজোথেরাপি ইত্যাদি।

ত্বক সুস্থ রাখতে এসব চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৩৭৩তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. ফারিয়াল হক। বর্তমানে তিনি প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে চর্ম ও যৌন বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ত্বক সুস্থ রাখতে, উজ্জ্বল করতে আপনারা রোগীকে কী পরামর্শ দেন?উত্তর : আমাদের কাছে রোগী যারা আসে, আমরা আসলে তাদের দুটো দল হিসেবে ভাগ করি। একটি দল আসে বয়স ত্রিশের পরে। এদের হয়তো চোখের নিচে কালি বা চেহারায় ছোট ছোট কালো দাগ রয়েছে, মেছতা রয়েছে। সে মুখকে শুধু সাদা করতে চায়।

অনেকে এসে বলে মুখের রং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে মুখের তুলনায় হাতের রং ফর্সা নয়। আমি একটি নির্দিষ্ট অংশকে ফর্সা করতে চাই। সেসব ক্ষেত্রে আমরা রোগীদের জন্য ওরাল একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরামর্শ দিয়ে থাকি, যার মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে, ই রয়েছে। সঙ্গে আমরা কিছু পদ্ধতিতে চলে যাই।

সত্যি কথা বলতে, বাজারে যেসব ক্রিম দিয়ে ফর্সা করার কথা বলা হয়, অঙ্গীকার করা হয়, সেটাতে আসলে ভয়ংকর স্টেরয়েড দেওয়া থাকে। তাই আমরা কোনো ক্রিমের মাধ্যমে ফর্সা হতে পারি না।

রোগীদের আমরা চিকিৎসা দিই কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে। যেমন—আমার নিজের চেম্বারে আমি করে থাকি কেমিক্যাল পিল। কেমিক্যাল পিল নাম শুনতে কিন্তু ভয়ংকর। তবে এই কেমিক্যালগুলো খুব প্রাকৃতিক উৎস থেকে আনা হচ্ছে। যেমন—এখানে আমরা ল্যাকটিস এসিড পিল ব্যবহার করি। এটা দুধের থেকে আনা হয়। এরপর আমরা গ্লাইকোলিক এসিড পিল ব্যবহার করি। এটি আমরা ফল থেকে আনি। তাই খুব প্রাকৃতিক উৎস থেকে এই পিলগুলো তৈরি করা হয়। এটি করতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। এর কাজ হলো মৃত কোষের যে লেয়ার, যেখানে দাগ রয়েছে, ওই লেয়ারকে আস্তে আস্তে তুলে ফেলা। ১৪ দিন পর পর আমরা এই সেশনগুলো করি। কারো ত্বক যদি একটু স্পর্শকাতর হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা মাসে একবার করে করি। এটি একটি পদ্ধতি। এতে যদি কেউ ১০০ ভাগ সন্তুষ্ট না হয়, তখন আমরা যোগ করি মাইক্রোডার্মাব্রেশন। মাইক্রোডার্মাব্রেশন একটি মেশিনের মাধ্যমে করা হয়। এর কাজ হলো এক্সফোলিয়েট করা। ওপরে যে মৃত কোষ একে আমরা সরিয়ে দেবো। কেমিক্যাল পিলের সঙ্গে যখন মাইক্রোডার্মাব্রেশন আমরা যোগ করে দিই, তখন খুব সুন্দর একটি ফল হয়।

এরপরও যদি রোগী সন্তুষ্ট না হয়, আমরা মেজোথেরাপি দিতে পারি। ছোট একটি ইনসুলিন সিরিঞ্জ দিয়ে ভিটামিন সি মুখের মধ্যে দিই। এটাও মাসে একবার করে করা হয়। মেজোথেরাপির মতো আরেকটি রয়েছে পিআরপি। প্লেটিলেট রিচ প্লাজমা। এখানে রোগীর রক্ত নেওয়া হবে, আমরা প্লেটিলেটকে আলাদা করব। এরপর ইনসুলিন সিরিঞ্জের মাধ্যমে যেই জায়গাগুলোতে উনি ভালো ফল চাচ্ছে, সেখানে আমরা ইনজেকশন দিই।

প্রশ্ন : যতগুলো পদ্ধতি বললেন, এগুলো কি মেলানোসাইটকে প্রভাবিত করে, নাকি টিস্যুর পুষ্টির মাত্রাকে ঠিক করে একটি উজ্জ্বলতা আনে?উত্তর : কেমিক্যাল পিল, মাইক্রোডার্মাব্রাশন এগুলো দিয়ে আমরা কোলাজেনকে স্টিমুলেট (উদ্দীপ্ত) করছি। আমাদের কোষের লেয়ার তিনটি এপিডার্মিস, ডার্মিস ও সাব-কিউটিনিয়াস। ওপরের লেয়ারে মেলানোসাইট থাকছে। মাঝখানে যেই লেয়ারটা ডার্মিস-এর কাজ হলো ত্বকের টেক্সচারকে ঠিক করা। টেক্সচারের ওপর নির্ভর করে কোলাজেন। যার যত কোলাজেন বেশি, তার ত্বক তত তরুণ, তত উজ্জ্বল। ডার্মিসকে ঠিক রাখা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাই আমরা যেই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছি এর উদ্দেশ্য হলো ডার্মিসে যেন কোলাজেন উৎপন্ন হয়। তবে এর সঙ্গে কিন্তু মেলানোসাইটের সম্পর্ক নেই। এসবের মাধ্যমে আসলে ত্বক সুস্থ থাকে।