ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮, ৭ বৈশাখ ১৪২৫
BYফারিয়া এজাজ
১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১২:৫০

প্রতিদিনের ব্যস্ততা, দৌড়ঝাঁপ, দূষণ কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে দেয় চেহারার ওপরে। ক্লান্তি, বলিরেখা সেটারই ফল। ক্রিম, মেকআপ দিয়ে সাময়িক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসা যায়। কিন্তু ত্বকের ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বের করে আনতে কিছুটা কাঠখড় পোড়াতে হবে। যোগব্যায়াম করতে হবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। কিছু কিছু আসন রয়েছে যা মাথাব্যথা, চাপ বা ধকল ও দুশ্চিন্তা দূর করে শরীরে এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। এতে চেহারার ক্লান্তি ভাব কেটে যায় এবং চেহারা হয়ে ওঠে তারুণ্যোজ্জ্বল। ইয়োগানিকার প্রশিক্ষক আনিকা রাব্বানির কাছ থেকে জানা গেল তেমনই মুখের কিছু যোগব্যায়ামের কথা।যেসব যোগব্যায়ামের বর্ণনা থাকছে, সেগুলো চর্চা করার সময় গভীর নিশ্বাস নিতে হবে। একই সঙ্গে শরীর এবং মাংসপেশি আরামে রাখতে হবে।

এটি বলিরেখা দূর করার জন্য বেশ কার্যকর। এ ছাড়া চোখকে সতেজ ও তরুণ রাখে। ঘরের ছাদের দিকে চোখ রেখে এক মিনিটের জন্য এভাবে ধরে রাখুন। এই যোগব্যায়ামটির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিন।

যোগব্যায়ামটি চোখের নিচের ফোলাভাব ও জ্বালাপোড়া কমায় এবং চোখের চারপাশের পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। চোখের কোটরের চারদিকে দুই মিনিটের জন্য আঙুলের ডগা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আলতোভাবে চাপুন।

দুই হাতে ভর দিয়ে ঘাড়ের অংশ টান টান করে মাথা জাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এতে করে আপনার ঘাড় থাকবে যৌবনদীপ্ত এবং ডবল চিনের সমস্যাও দূর হবে।

বিপারিতা কারানি

চোয়ালের রেখায় আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা করে চিমটি কেটে কেটে থুতনি পর্যন্ত আসতে হবে। এতে করে সেই অংশ হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় ও সুন্দর। এ ছাড়া চোয়াল ও থুতনির অংশে দুশ্চিন্তা বা ধকলের যে ছাপ পড়ে তা-ও কমে আসবে।

সালাম্বা সারভাঙ্গাসানা

একে সকল যোগব্যায়ামের রানি বলা হয়ে থাকে। এটি সম্পূর্ণ শরীরের কার্যক্রমে সহায়তা করে। এই যোগব্যায়ামটির স্থায়িত্ব ৩০ সেকেন্ড থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। এটি বলিরেখা, ভেরিকোস ভেইন, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঠান্ডার সমস্যা দূর করে, প্রশান্ত ঘুম নিশ্চিত করে, স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশমিত করে, হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে ও হৃৎপিণ্ড এবং শ্বাসপ্রশ্বাস-প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

মনে রাখা ভালো

যাদের প্রতিনিয়তই স্ক্রিনের সামনে সময় কাটাতে হয়, তাদের জন্য এই যোগব্যায়ামগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সময়ের জন্য যখন মনোযোগসহ আসনগুলো করা হয় তখন শরীর ও মন একেবারে প্রশান্ত হয়ে যায় এবং পুরো শরীরে একধরনের সংযোগ সৃষ্টি হয়।

চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মুখের অঙ্গভঙ্গি। মেরুদণ্ড যদি সোজা না থাকে তবে কোনো কিছুতেই চেহারার সৌন্দর্য ফুটে উঠবে না এবং বলিরেখাও দূর হবে না। অঙ্গভঙ্গির ওপর চেহারা দেখতে কেমন, এমনকি আত্মবিশ্বাসটিও নির্ভর করে।