ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৬
BYলাইফস্টাইল ডেস্ক|  ১৭ মে ২০১৮, ১৫:৪০ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ১৬:০৮
চলে এলো মাহে রমজান। সারা বিশ্বের মুসলমানরা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে। তবে এ মাসটিতে অনেকেই আছেন যারা স্বাস্থ্যগত কারণে এবং বয়সী হওয়ার কারণে রোজা রাখতে পারেন না। এছাড়াও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদীসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় কারণে রোজা রাখতে সক্ষম হন না। তবে রোজা না রাখলেও রমজানে রোজাদারদের আশেপাশে থাকলে এবং পাবলিক প্লেসে বেশ কিছু আদবকেতা মেনে নিতে হবে। চলুন জেনে নেই ।

১) রোজার আধ্যাত্মিক ব্যাপারটি বোঝার চেষ্টা করুন।

২) নিজের মুখের ভাষা প্রয়োগের উপর নিয়ন্ত্রণ আনুন। কোনো অবস্থাতেই গালি কিংবা অশালীন কোনো শব্দ ব্যবহার করবেন না ভাষায়। আপনার অশালীন ভাষা অন্যদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিতে পারে।

৩) রোজা রেখে আপনার সহকর্মী দুর্বলতা বোধ করতে পারে। শারীরিকভাবে অনেক শক্তি প্রয়োজন হয় এরকম কাজে এবং কোন কিছু বহন করতে হলে তাকে সাহায্য করুন।

৪) রাস্তঘাটে সবার সামনে কোনও কিছু খাওয়া, ধূমপান করা ও পানীয় পান করা যাবে না। আপনি রোজা না রাখতে পারেন, কিন্তু যারা সংযম পালন করেছেন তাদেরকে সম্মান করুন।

৫) নারী পুরুষ সবাই সংযত পোশাক পড়ার চেষ্টা করুন।

৬) রমজানে কর্মঘণ্টা কম থাকে সাধারণের চেয়ে। তাই ভুলেও ইফতারের সময় কিংবা নামাজের সময় মিটিংয়ের সময় ফেলবেন না। বরং অফিস শুরু হওয়ার পরপরই অথবা ইফতারের কয়েক ঘন্টা আগে সময় নির্দিষ্ট করুন।

৭) কোনো অবস্থাতেই অপচয় করবেন না। রোজার মাসকে খাবারের উৎসবে পরিণত করা একেবারেই ঠিক নয়। কোনো পরিস্থিতিতেই খাবার কিংবা অর্থ অপচয় করা ঠিক হবে না। বরং অপচয় না করে গরীবদেরকে দান করুন অথবা ইফতার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন। -------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : রমজানে ডায়াবেটিস রোগীরা কী খাবেন? --------------------------------------------------------

৮) ইফতার মুসলমান রোজাদারদের একটি বিশেষ খাবার। আপনার মুসলমান বন্ধুটি যদি আপনি অমুসলিম জেনেও আপনাকে ইফতারের দাওয়াত দেয় তবে তার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করুন।

৯) ভুলেও আপনি বলবেন না যে ওজন কমানোর জন্য রোজা রাখবেন। রোজা কোনও ওজন কমানোর ডায়েট প্ল্যান নয়। এর মানে হলো আপনাকে একটা শৃংখলার মধ্যে আনা।

১০) রোজার মাসে আচরণ মার্জিত থাকা উচিত। কারো সাথে হুট করে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়া উচিত নয় একেবারেই। নিজের মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রোজার মাসই হলো সর্ব শ্রেষ্ঠ সময়।

১১) রোজার মাসে ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুক। নিজের ধর্মকে ছোট করার মত কোনো হাস্যকর কাজ করবেন না। সেই সঙ্গে ফেসবুকে অশালীন ছবি দেয়া, বাজে মন্তব্য কিংবা অন্য কোনো অসামাজিক কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

১২) উচ্চ শব্দে গান কিংবা মাইক বাজাবেন না রোজার মাসে। এতে মানুষের ইবাদত বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং মানুষের মনে বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে।

কেএইচ/ এমকে