ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৬
BYজাতীয় | ২০১৮, জুন ১২ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

ঋণ খেলাপি ও তারল্য সঙ্কটে জর্জরিত ব্যাংক খাতে নগদ টাকার সঙ্কট চলছে। বিশেষ করে ঈদে নগদ টাকার সংস্থান করতে গিয়ে হিমসীম খাচ্ছে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক। বেতন ও ঈদ বোনাস প্রদান করতে গিয়ে শ্রমিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়ছে। কিছু গার্মেন্টস আগে থেকে বেতন-বোনাস দিলেও অনেক কারখানাই এখনও দিতে পারেনি। ব্যাংকে চাহিদা মোতাবেক টাকা না পাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে বিপাকে আছে গার্মেন্টসসহ শ্রমিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ না পারলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এদিকে গত শনিবার নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় মাসদাইর এনএম ফ্যাশনের মালিক আব্দুল মতিন (৪৭) নামে এক গার্মেন্ট মালিক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে না পারা এবং নানা কারনে ঋণগ্রস্থ থাকায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে কেউ কেউ পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের জন্য ঈদ মার্কেট করতে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলছে। কেউবা ঈদে বিদেশ ভ্রমনের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। এছাড়া গত প্রায় ৬ মাস থেকেই ব্যাংকে টাকার ভয়াবহ সঙ্কট বিদ্যমান। পাশাপাশি জুন মাস অর্থবছরের শেষ মাস। ব্যাংক ক্লোসিং’র মাস। এটা নিয়েও চিন্তিত ব্যাংকগুলো। অর্থ সঙ্কটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংকগুলোর নিয়মবহির্ভূত ঋণ দেয়াকে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোনো ব্যাংকের আমানত কমে গেলেও স্বার্থসংিশ্লস্ট ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এ সঙ্কট মেটাতে ব্যাংকটি বাধ্য হয়ে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেতন ও বোনাস পরিশোধে ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকার লেনদেন বেড়ে গেছে। কিন্ত চাহিদার তুলনায় গ্রাহকের নগদ টাকা সরবারহে অধিকাংশ ব্যাংক কুলিয়ে উঠতে পারছে না। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট-খাতের লেনদেনগুলো ছাড় দিলেও বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করতে অনুৎসাহিত করছে ব্যাংক। আবার অনেক দিন আগে থেকে ব্যাংককে বলে রাখতে হয়। ব্যাংকে টাকা থাকা সত্বেও প্রয়োজনে টাকা না পাওয়ায় অসন্তোষ্ট গ্রাহকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক জানালেন, ফারমার্স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা থাকা সত্বেও চেক দিয়ে টাকা পাচ্ছেন না তিনি। বারবার চেক বাউন্স হচ্ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন ওই গ্রাহক। গত দুই দিন ফারমার্স ব্যাংকের মতিঝিল ও গুলশান শাখায় সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানা গেছে।

Share this: