ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

ফের চাঙ্গা মাদকবিরোধী অভিযান

http://bdsaradin.com//ফের-চাঙ্গা-মাদকবিরোধী-অভ/
BYজাতীয় | ২০১৮, জুলাই ১২ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ

সরকারের র্শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদকনির্মূলের কঠোর নির্দেশনা পরই শুরু হয়েছিল দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান। শুরুতে এ অভিযান সবশ্রেণির মানুষের সাধুবাদ পেলেও পরে মাদকব্যবসায় যুক্ত থাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কক্সবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের ঘটনা ও নিহত হওয়ার সময়ের ফোনালাপ প্রকাশের পর এ অভিযান নিয়ে দেশবিদেশে তৈরি হয় তুমুল সমালোচনা। এর জেরেই বির্তকের মুখে মাদকবিরোধী অভিযান অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়ে।কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এ অভিযান আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে৷ বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে ১৪ মে থেকে৷ শুরুতে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন বা দুইজন নিহত হলেও। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। এমনকি অভিযানে একদিনে ১২ জন নিহত হওয়ারও রেকর্ড আছে৷ আর শুরুর পর এক মাসে মোট নিহত হন ১৫০ জন৷

এ অভিযান চলাকালে গত ২৭ মে রাতে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর কক্সবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সাবেক যুবলীগ নেতা একরামুল হক গুলিতে নিহত হন৷ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একরামুলকে ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে৷ স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ ছিল না৷ এরপর সংবাদ সম্মেলন করে একরামুলের স্ত্রী ‘ক্রসফয়ারের’ একটি টেলিফোন রেকর্ডের অডিও প্রকাশ করেন, যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়৷ একরামের পরিবার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা একরাম ‘হত্যার’ বিচার দাবি করেন৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে এ অভিযান বন্ধের দাবি জানায়৷ এরপর জুন মাসে মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনা কমে যায়৷ কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে৷ জুন মাসে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার সংখ্যা কমে আসার পিছনে ঈদুল ফিতরও একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে৷

কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের প্রথম দিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এক-দুইজন করে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিলো৷ বুধবার দেশের চার জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ কেরানিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর ও নাটোরে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই পাঁচজন নিহত হন৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত সবাই চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা৷

Share this: