ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৬
BY  মো. মাহফুজুর রহমান ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

এ মাসের শেষদিকে আরো একটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া, ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টির কারণে মাসটির প্রথমদিকে আসছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ। তবে ওই মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে উন্নতি হচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি। এর ফলে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। তবে সহসাই এই শীত যাচ্ছে না। শীতের প্রকোপ থাকবে বেশ কয়েকদিন। আকাশে মেঘ না থাকায় বিকালের পরই দ্রুত উষ্ণতা কমে যাচ্ছে। হাওয়ায় কনকনে ভাব বেশি থাকায় এ বছর তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার গতি বেশি। তবে গত বুধবার থেকে সারাদেশে তাপমাত্রার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এভাবে দিন যতো যাবে, ততো তাপমাত্রা বাড়বে।

আবহাওয়া অফিস থেকে আরো জানানো হয়, শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের প্রকোপ থাকবে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ওই মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান আমাদের সময়কে বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। প্রতিদিনই উন্নতি হচ্ছে তাপমাত্রার।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। যেসব এলাকার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা উত্তর-পশ্চিমাংশে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে ১টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে আসছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ।

তথ্য-উপাত্ত বলছে, জানুয়ারির শুরুতেই দেশজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা ক্রমে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সারাদেশে কৃষকের মাঠে এখন বোরো বীজতলা রয়েছে, যা এ শৈত্যপ্রাহের কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই কৃষকদের এ মৌসুমে ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বোরো মৌসুমে চারা অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ হলে চারা মারা যায়। কুশি অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ হলে কুশির বাড়ন্ত গতি কমে ও গাছ হলুদ হয়ে যায়। আবার থোড় বা শীষ পুরোপুরি বের হতে দেয় না, শীষের অগ্রভাগের ধান মরে যায় এবং শীষে চিটার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ছাড়াও ঠাণ্ডার প্রকোপে ধসে পড়া রোগের জন্য চারা মারা যায়।

শৈত্যপ্রবাহ থেকে বোরো বীজতলা ও ধান ফসল রায় কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তাদের পরামর্শ, শৈত্যপ্রবাহের সময় স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বীজতলা সকাল ১০-১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে। বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে সন্ধ্যায় নতুন করে ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে তা ধরে রাখতে হবে। প্রতিদিন সকালে রশি টানা দিয়ে চারার গায়ে জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে। ঠাণ্ডার কারণে ধসে পড়া রোগ দেখা দিলে বীজতলা থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে। চারা রোপণকালে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েক দিন দেরি করে চারা রোপণ করতে হবে, যাতে শীতে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। রোপণের পর শৈত্যপ্রবাহ হলে এবং কুশি অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫-৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে চারা মৃত্যুর হার কমে, চারা সতেজ থাকে এবং ফলন বেশি হয়। থোড় ও ফুল ফোটার সময় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিরাজ করলে ক্ষেত্রে ৫-৭ সেন্টিমিটার দাঁড়ানো পানি রাখলে থোড় সহজে বের হয় এবং চিটার পরিমাণ কমে।

বোরো ধানের চারায় শীতজনিত সমস্যাসহ রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এ সময় সাধারণত কচি পাতাগুলো হলুদ বা কোরোসিস হয়ে যাওয়াসহ চারার বৃদ্ধি হ্রাস পায়। এ অবস্থায় শীতে আক্রান্ত চারা রোগবালাইসহ পোকামাকড়ের আক্রমণে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শীতে চারা যেসব রোগে আক্রান্ত হয় এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ড্যাম্পিং অব এবং সিডলিং স্লাইড।’

ড্যাম্পিং অব রোগ মূলত যেসব বীজতলায় স্ট্যান্ডিং ওয়াটার থাকে সেখানে হয়। যদি সবুজাভ শেওলা-জাতীয় ছত্রাক দেখা যায় এবং চারা বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে মারা যায় তাহলে বুঝতে হবে ড্যাম্পিং অব হয়েছে। এ রোগ বীজতলায় কেবল যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে সেখানেই দেখা যায়। সমতলভাবে বীজতলা তৈরি করতে হবে। আদর্শ বীজতলায় বীজ ফেললে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পানি নামিয়ে ২-৪ দিন শুকনা অবস্থায় রাখতে হবে এবং কপার-জাতীয় বা বেনজিমিডাজল গ্রুপের যে কোনো ছত্রাকনাশক যেমন কার্বেনডাজিম ব্যাভিস্টিন, বেনোজিয়াম স্প্রে করলে চারা রোগমুক্ত হয়।

যেসব লটে বেশি মুড়ি পড়া বীজ থাকে অর্থাৎ কম গজানো সেসব চারা শীতে বাড়তে পারে না, অনেক সময় মাটিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে গজানো চারায় আক্রমণ করে এবং নরম অংশ থেকে সহজে খাদ্য গ্রহণ করে ছত্রাকের বৃদ্ধি চারার চেয়ে বেশি হওয়ায় পুরো চারাটিকে ছত্রাক জালে জড়িয়ে মেরে ফেলে, চারার চারদিকে সব সময় মাইসেলিয়াম ও ছত্রাক গুটি দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হলে চারা টান দিলে সহজে উঠে আসবে এবং গোড়ায় পচা দাগ দেখা যায়, নাকে ধরলে গন্ধ লাগবে। আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন করার ব্যবস্থাসহ পানি ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। মাঝেমধ্যে পানি দিতে হবে। ধানের বীজতলায় না ফেলাই উত্তম। বীজের অঙ্কুরোদগম ভালোভাবে হলে সেই অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করতে হবে।