ঢাকা, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, ৯ বৈশাখ ১৪২৫

রাজধানী জুড়ে গ্যাস সংকট, ঘাটতি ৩০০ মিলিয়ন

http://dainikamadershomoy.com/bangladesh/120827/রাজধানী-জুড়ে-গ্যাস-সংকট-ঘাটতি-৩০০-মিলিয়ন
BY  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

গ্যাস নেই এমন অভিযোগ সারা বছরই থাকে গ্রাহকদের। তবে শীত এলেই এই অভিযোগের পাহাড় জমা হয়। প্রায় প্রতি বছরই শীতকালে গ্যাস সংকটে থাকে রাজধানীবাসি। শুধু যাত্রবাড়ি, মীরবাগ বা পাটুয়াটুলী নয় রাজধানীসহ তিতাসে আওতাভূক্ত অনেক এলাকাতেই গ্যাস সংকট চরমে। মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।

এই ভোগান্তির শিকার গৃহিনী জলি খানম। বাসা যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায়। প্রচন্ড ভোগান্তিতে আছেন গ্যাস সংকটের কারনে। রান্না-বান্না খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম বদলে গেছে। প্রায়ই পরিবারের মানুষজনের খাবার হোটেল থেকে এনে খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন সকাল ৭ টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত নিয়মিত গ্যাস থাকে না। খুব ভোরে উঠে রান্না করতে হয়। ঘুম থেকে উঠতে দেরী হলেই সেদিনের খাবার বাইরে থেকে এনে খেতে হয়। আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাস চলে যায় আসে রাত ১১টায়। গ্যাস সংকট একটা ভয়াবহ আকার ধারন করে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ইলেকট্রনিক্স প্রেসার কুকার কিনে এনেছি। গ্যাস ব্যবহার করতে পারছি না অথচ বিল দিতে হচ্ছে। কি আজব পরিস্থিতির মধ্যে আছি আমরা।

রাজধানীর রামপুরা মীরবাগ এলাকায় থাকেন লতিফুর রহমান। তিনি পুঁজি বাজারে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন অনেক দিন যাবৎই তাদের এলাকায় নিয়মিত গ্যাস থাকে না। কিন্তু গত চার পাচঁদিন যাবৎ সংকট আরো চরম আকার ধারন করেছে। মধুবাগ, মীরবাগ, রামপুরাসহ আশে পাশের এলাকায় সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তিনি বলেন, আমাদের খাওয়া দাওয়ার কোন ঠিক নেই। হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হয়। বাড়ীওয়ালাকে আমাদের ঠিকই মাস শেষে গ্যাসের বিল পরিশোধ করে দিতে হয়। অথচ আমরা গ্যাস পাই না এটা কেমন কথা? বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে হয়েছে। গ্যাস না থাকায় এখন ওই চুলায় রান্না করতে হয়। সেখানেও সমস্যা মাস শেষে আমাদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে। ফলে সার্বিকভাবে আমাদের আয় না বাড়লেও জীবন যাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে হোটেলের খাবার খাওয়ায় মাঝে মধ্যেই অসুখেও ভুগতে হয়।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারনে বাড়ছে ইলেকট্রিক চুলা বিক্রির পরিমান। মানুষ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনে ব্যবহার করছে। রামপুরা এলাকার ‘পিহাম’ ইলেকট্রনিক্স দোকানের স্বত্বাধিকারী মোঃ নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গত তিন চারদিনে অর্ধ শতাধিক ইলেকট্রিক চুলা বিক্রি করেছেন তিনি। আরো অনেক চুলার অর্ডার আছে। কিন্তু দোকানে চুলা না থাকায় সরবরাহ করতে পারছেন না। শুধু ইলেকট্রিক চুলা নয় রাজধানীর হোটেলগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে। তবে অনেক হোটেলে গ্যাসের সংকট থাকায় তারা বোতলজাত গ্যাস ব্যবহার করে খাবার তৈরী করায় খাবারের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেন এই গ্যাস সংকট জানতে চাইলে বাংলাদেশ তৈল গ্যাস খনিজ খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলার) পরিচালক অপারেশন মোঃ জামিল আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য আছে। তিতাসে এলাকায় যতটা গ্যাসের চাহিদা ততটা সরবরাহ নেই। ফলে সংকট। এই সংকট শিগগির সমাধানের কোন উপায় নেই বলেও তিনি জানান।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন গ্যাসের চাহিদা দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু এখন গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে শীতের কারনে মানুষের গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষ পানি গরমসহ নানা কারনে গ্যাসের ব্যবহার শীতে বেশি করে থাকে। হিসাব অনুযায়ী শীতকালে ২০ শতাংশ গ্যাসের ব্যবহার বেশি হয়। ফলে একদিকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম অন্যদিকে গ্যাসের ব্যবহার বেশি ফলে সংকট দেখা দিয়েছে। তবে তিনি বলেন গ্রীষ্মকালে এই সংকট কমে আসবে।