ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন

http://dainikamadershomoy.com/bangladesh/125390/পরীক্ষাকেন্দ্রের-২০০-মিটারের-মধ্যে-নিষিদ্ধ-মোবাইল-ফোন
BY  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ কাজে না আসায় এবার পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ না করলে তাকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণসংক্রান্ত এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি), সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করে আসনে বসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কিছু কিছু কেন্দ্রে ওই সময়ের পরেও পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রের আশপাশে অনেকেই স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরাফেরা করছে।

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবং প্রশ্নফাঁসের গুজবমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদেরÑ এক. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীর আবশ্যিকভাবে হলে প্রবেশ ও আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওই সময়ের পরে কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। দুই. পরীক্ষকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষাকেন্দ্রের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কেবল কেন্দ্র সচিব সাধারণ (স্মার্টফোন নয়) একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না। তবে ওই ফোনটিও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে রেখে ব্যবহার করার নিয়ম।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষার প্রশ্নই এবার পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফাঁস হয়েছে, সেই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিলেও লাভ হয়নি। এক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পর বিভিন্ন ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে পরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিজ্ঞাপন চলছে নিয়মিত।

প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টায় সরকার পরীক্ষা শুরুর সময় আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েও পরে সমালোচনার মুখে সরে আসে।

এসএসসিতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে করণীয় নির্ধারণে ৪ ফেব্রুয়ারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়।

কমিটির প্রথম সভার পর আলমগীর জানান, প্রশ্নফাঁসে ব্যবহৃত ৩০০ মোবাইল ফোন নম্বর চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এসব মোবাইল নম্বরের মালিকদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানেও নেমেছে।