ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

কোরাম সংকটে ১২৫ কোটি টাকার অপচয় : টিআইবি

http://dainikamadershomoy.com/bangladesh/138376/কোরাম-সংকটে-১২৫-কোটি-টাকার-অপচয়---টিআইবি
BY  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে ২০১৮, ১৮:১২ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ১৯:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

কোরাম সংকটসহ অযথা প্রশংসা, কুৎসা ও কটু কথায় দশম জাতীয় সংসদের মূল্যবান কর্মঘন্টা ও অর্থের অপচয় হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারনেশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি জানায়, শুধুমাত্র কোরাম সংকটের কারণে সময় অপচয় হয়েছে ১৫২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট, যার আনুমানিক অর্থমূল্য ১২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ ছাড়া অশালীন ভাষা ও কটু কথায় অপচয় হয়েছে ১৩ ঘণ্টা, যার অর্থমূল্য ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮০ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার টিআইবি কার্যালয়ে ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ দশম জাতীয় সংসদ চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশন (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০১৭)’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে পাঁচ অধিবেশনে অপচয় হওয়া কর্মঘন্টা ও অর্থের চিত্র তুলে ধরে টিআইবি।

সংসদের বিধি অনুযায়ী, অন্তত ৬০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত না থাকলে অধিবেশন বসতে পারে না। এই অনুপস্থিতিকেই বলা হয় ‘কোরাম সংকট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশনের মোট প্রকৃত সময় ছিল ২৯৮ ঘণ্টা ১১ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম সংকটে অপচয় হয়েছে মোট ৩৮ ঘণ্টা ৩ মিনিট, যা পাঁচ অধিবেশনের প্রকৃত সময়ের শতকরা ১৩ ভাগ।

টিআইবি জানায়, সংসদ পরিচালনার করতে প্রতি মিনিটে গড়ে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা ব্যয় হয়। এই হিসেবে অধিবেশনের প্রতি কার্যদিবসে গড় কোরাম সংকটের কারণে অপচয় হওয়া সময়ের অর্থমূল্য ৪৯ লাখ ১০ হাজার ৫৮০ টাকা। পাঁচ অধিবেশনে এই অপচয় দাড়ায় ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৮ টাকা এবং দশম জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে অষ্টাদশ অধিবেশন পর্যন্ত এই খরচ দাড়ায় ১২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪৫ টাকা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও সংসদে কোরাম সংকট অব্যাহত ছিল। এই সংকটের ফলে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। এটা সংসদ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের আগ্রহের কমতি ও ঘাটতির পরিচয়। পাশাপাশি প্রসংশা, কুৎসা ও কটুকথা সহ অশালীন কথার পেছনে অপচয় হয়েছে অনেকখানি সময়, যার অর্থমূল্যও কম নয়, যা খুবই উদ্বেগজনক।’

ড. জামান আরও বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদের এই পাঁচ অধিবেশনে অশালীন ভাষা ও কটু কথায় অপচয় হয়েছে ১৩ ঘণ্টা। এই সময়ের আনুানিক অর্থমূল্য ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮০ টাকা। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। এটা মোটেই কাম্য নয়।’

দশম জাতীয় সংসদের সার্বিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে ড. জামান বলেন, ‘সরকারের জবাবদিহীতা ও সুশাসন নিশ্চিতে সংসদের ঘাটতি রয়েছে। এর পেছনে সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে অংশগ্রহনের আগ্রহের ঘাটতি ও উদাসিনতাও দায়ি।’

এছাড়া সংসদে বিরোধী দলের দুর্বল ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা ও বক্তব্যে সহজেই বোঝা যায় যে তারা আত্মপরিচয় ও নিজ অবস্থান সংকটে আছেন।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে বিরোধী দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ড. জামান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ দূত হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা পালন করেননি। তার নিয়োগের সরকারি কোনও গেজেট প্রকাশ হয়নি এবং কোনও দাফতরিক নির্দেশনাও পাওয়া যায়নি। অথচ তার পদের কারণে প্রটোকলসহ প্রতি মাসে তার পেছনে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করছে সরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিহার রঞ্জন রায়, মোরশেদা আক্তার ও অ্যাসিসট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিত সরকার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল।