ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পে ৫০ বছরে মরুভূমি হবে দেশ: মকসুদ

http://www.dhakatimes24.com/2018/02/14/69308/রামপাল-বিদ্যুৎকেন্দ্র-শিল্পে-৫০-বছরে-মরুভূমি-হবে-দেশ-মকসুদ
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেখানে যেসব কলকারখারা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করা না গেলে ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দেশ মরুভূমি হয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

‘সুন্দরবন পালন দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে ‍বুধবার শাহবাগে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন মকসুদ। পরিবেশবাদী ৫৭ টি সংগঠন তাদের কর্মীদের নিয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মকসুদ বলেন, একটি মহল সুন্দরবনের ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই বনের আশেপাশে তাদের ব্যবসায়ের শাখা প্রশাখা ছড়াচ্ছে।

‘সুন্দরবনকে ঘিরে ৩২০টি কলকারখানা প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। যারা এসব কারখানা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেই সরকারের নাম ব্যবহার করছে। কিন্তু তাদের এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।’

সুন্দরবনের পাশে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকারকে পরামর্শ দেন এই লেখক। দাবি পূরণ না হলে মানববন্ধনের বাইরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বলেন, ‘সুন্দরবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কোন প্রকল্প বনের আশপাশে দেয়া চলবে না। সুন্দরবন বাঁচাতে আমরা শুধু মানববন্ধনে সীমাবদ্ধ থাকব না, প্রয়োজনে সুন্দরবনকে ঘিরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবো।’

আবুল মকসুদ বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি শুধু যে আমাদের ভৌগলিক সম্পদ তা নয়, বরং এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সুন্দরবন ধ্বংস হলে আমরা ঐতিহ্য হারাব এবং আগামী প্রজন্ম বসবাসযোগ্য দেশ হারাবে।’

‘সুন্দরবনে পাশে এভাবে কলকারখানার মতো প্রকল্প তৈরি হলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দেশ মরুভূমি হয়ে যাবে।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদেরকে সরকারের কটাক্ষের সমালোচনা করে মকসুদ বলেন, ‘কেউ কেউ আমাদেরকে উন্নয়নবিরোধী বলে গালি দেয়। কিন্তু আমরা উন্নয়ন বিরোধী নই, বরং উন্নয়নকে সুদূরপ্রসারী করার জন্যই আমরা আওয়াজ দিই।’ জনমত আমলে নিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ এ সময় বলেন, ‘সুন্দরবনের পাশেই কেন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার প্রয়োজন পড়ল? সুন্দরবনের পাশে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে বন ধ্বংস হয়ে যাবে।’

ভারতসহ জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, চীনের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করেন রহমতউল্লাহ।

(ঢাকাটাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/এএকে/ডব্লিউবি)