ঢাকা, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮, ৯ বৈশাখ ১৪২৫

আ.লীগের সাংসদ মিজানকে দুদকে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

http://www.dhakatimes24.com/2018/04/16/77481/আ.লীগের-সাংসদ-মিজানকে-দুদকে-পাঁচ-ঘণ্টা-জিজ্ঞাসাবাদ
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

অবৈধ সম্পদ অর্জন বিষয়ে খুলনা-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। এ সময় কোনো ধরনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ আওয়ামী লীগের এই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

খুলনা-২ আসনের সংসদ মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৪ এপ্রিল চিঠি পাঠিয়ে তলব করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুলনা সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সরকারি অফিসের ঠিকাদারি কাজ পরিবারের সদস্যদের দেওয়া, নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা এবং মাদকের কারবারে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে মিজানের বিরুদ্ধে।

দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মিজান কোনো রকম দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ গণলমাধ্যম কর্মীদের কাছেও অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে তার বদনাম করার চেষ্টা করছে।।

মিজান বলেন, ‘একটি মহল, আমি জানি না তারা কারা, তবে তারা খুবই ক্ষমতাশালী। ষড়যন্ত্র করে তারা কাজটি করেছে। আমি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করছি না।

‘দুদক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। যে বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আমি সে বিষয়ে অবগত হলাম। আমি দুদককে বলেছি এ ধরনের বিষয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাচাই-বাছাই করেন, অনুসন্ধান করেন।’

‘আমার বিশ্বাস কিছু মানুষ আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ষড়যন্ত্র করে এ ধরনের বানোয়াট মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে আমাকে বিভ্রান্ত করে, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি চাই যে দুদক যেন সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করুক। ডিজিটালের যুগে তথ্য গোপন করার সুযোগ নেই। সব তথ্য-উপাত্ত নিযে সঠিকভাবে তদন্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমি মনে করি এর প্রয়োজন আছে। ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্ত করে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছিল।’

‘আমি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। একটি বৈরি আসনকে আওয়ামী লীগের পক্ষে পজিটিভ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আজকে একটি পরিণতিতে পৌঁছেছি। সরকারের পক্ষে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি আমার আসনের মানুষ তা বুঝে।’

নির্বাচনী বছরে এ ধরনের অভিযোগ আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নে কোনো বিরুপ পভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নে মিজান বলেন, ‘আমি মনে করি অতিসত্তর সমস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে কোনো দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অর্জন এ ধরনের কোনো বিষয়ের সাথে আমি কখনোই ছিলাম না এবং আগামীতে সম্পৃক্ত হবো না। আমার বিশ্বাস সঠিকভাবে তদন্ত করলে এটা বেরিয়ে আসবে। আগামী দিনের প্রজন্ম সেটাকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করবে।’

মিজানুর রহমান ছাড়াও নরসিংদীর সংসদ সদস্য কামরুল আহসান খান এবং শেরপুরের আতিউর রহমান আতিককেও তলব করেছে দুদক।

লালমনিরহাটে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু এবং নাটোরে বিএনপির সাবেক সাংসদ রুহুল কুদ্দুস দুলুর বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিএনপি।

এর বাইরে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এম মোর্শেদ খান, আবদুল আউয়াল মিণ্টু, তাবিথ আউয়াল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/এমএবি/ডব্লিউবি)