ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৬

ট্রাফিক আইন মানাতে এবার রাস্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন

http://www.dhakatimes24.com/2018/08/10/92484/ট্রাফিক-আইন-মানাতে-এবার-রাস্তায়-ইলিয়াস-কাঞ্চন
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার স্মৃতি তাজা থাকা অবস্থায় এবার ট্রাফিক আইন নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভিন্নভাবে মাঠে নেমেছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুর পর ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। গড়ে তুলেছেন নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচা নামে সংগঠন। আর এই সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘একুশে পদক’ও পান তিনি।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের এই প্রচেষ্টা এক ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে বরাবর। তবে গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তারা রাস্তায় নামার পর টানা এক সপ্তাহজুড়ে দেশে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল এই নিরাপদ সড়কের দাবিটিই।

গত ৫ আগস্ট থেমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু তোলপাড় করা এই আন্দোলনের কতটা প্রভাব জনমানুষের মনে পড়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়।

সমাজের সব পক্ষ থেকেই যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি উঠলেও ছাত্ররা রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আবার সড়কে সেই বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। ট্রাফিক আইন মেনে সঠিকভাবে চলাচলের বদলে আগে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা স্পষ্ট।

এমনকি যারা আন্দোলন করেছিল, সেই শিক্ষার্থীরাও রাস্তা পারাপারে এতটুকু সচেতন হয়েছে, সেটি বলারও সুযোগ নেই। এই অবস্থায় এই আন্দোলন জনমানুষকে আদৌ কতটা সচেতন করেছে, এমন প্রশ্নও উঠছে সামাজিক মাধ্যমে।

এর মধ্যে ইলিয়াস কাঞ্চনের সড়কে নেমে ট্রাফিক আইন অনুসরণে বাধ্য করার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে ফেসবুকে। এটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দ্রুত চলার প্রবণতা, ওভারটেক, আগে যাওয়ার প্রবণতায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির রাস্তা আটকে যানজট বাঁধিয়ে দেয়ার চিরাচরিত দিক ফুটে উঠেছে।

তবে নিয়ম না মেনে যারা রাস্তার বিপরীত দিক থেকে আসছেন তাদেরকে ঘুরিয়ে দিতে দেখা যায় ইলিয়াস কাঞ্চনকে। এই যানবাহনের বেশিরভাগই মোটর সাইকেল।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস কাঞ্চন উল্টো পথে আসা চালকদের ভর্ৎসনা করছেন। বলছেন, আপনারা যদি আইন না মানেন, তাহলে কীভাবে হবে। এভাবে চললে বিপরীত দিকের গাড়িগুলো কোথায় যাবে।

জনপ্রিয় এই অভিনেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই অভ্যাস ৪৭ বছরের। আমরা নিয়ম মানছি না। বাচ্চারা আন্দোলন করল। দেখা গেল, অনেকক্ষেত্রে তারাও নিয়ম মানছে না৷ তারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে না, উল্টো পথে গাড়ি চালাচ্ছে।’

‘আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলাম, ট্রাফিক আইনটাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এই নির্দেশটাই দিয়েছেন। পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করলে অনেকেই নিয়মগুলো জানবে।'

(ঢাকাটাইমস/১০আগস্ট/কারই/ডব্লিউবি/জেবি)