ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৬

ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ প্রতারক ২ দিনের রিমান্ডে

http://www.dhakatimes24.com/2018/10/11/99337/ভুয়া-প্রশ্নপত্র-ফাঁস-চক্রের-৫-প্রতারক-২-দিনের-রিমান্ডে
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারক চক্রের পাঁচজনের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে যাওয়া পাঁচজন হলেন- পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়ার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী, চাঁদপুর মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া, মাদারীপুরের কালকিনির হাসানুর রশীদের ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন, নওগাঁর পত্নীতলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভির আদিত্য ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন।তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা প্রথম মামলার আসামি।

বুধবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর পল্টন থানায় মামলাটি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের (উপ-পরিদর্শক) শিব্বির আহমেদ। শুনানি শেষে দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার কাজলার পার ও দনিয়ায় অভিযান চালিয়ে দুইটি মোবাইল ও একটি বিকাশ রেজিস্ট্রার খাতাসহ আসামিদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন রাত ৯টার দিকে বাড্ডা থানার আলিফনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপর তিনজনকে তিনটি মোবাইল ও দুইটি ল্যাপটপসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতে তোলার আগে গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান,প্রতারণা চক্রের প্রধান কাউসার গাজী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ জানিয়েছেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে না পারায় নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তৈরি করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তা ছড়িয়েছেন। আর তাদের ফাঁদে পড়ে এই প্রশ্নপত্র কিনেছেন পরীক্ষার্থীরা।

গত ৫ অক্টোবর সারাদেশে একযোগে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

মোল্যা নজরুল জানান, কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতেন তার বন্ধু সোহেল মিয়া। তিনি অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা লেনদেন করতেন।

তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানান, তারা অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ছিলেন। কিন্তু নজরদারির কারণে এবার প্রশ্নপত্র জোগাড় করতে পারেননি। এরপর ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ১০টি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রচারণা চালান।

তারা বিভিন্ন সাজেশন বই, বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র একত্রে করে এই ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করেন।

এই চক্রেআরও সদস্য আছেন জানিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করছি, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করতে পারব।’

(ঢাকাটাইমস/১১অক্টোবর/এএ/এআর )