ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আপিলে চারটি আসনে শূন্যতা কাটলো বিএনপির

http://www.dhakatimes24.com/2018/12/06/105525/আপিলে-চারটি-আসনে-শূন্যতা-কাটলো-বিএনপির
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

মনোনয়নয়পত্র বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপির অনেক প্রার্থী। এর মধ্যে এমন চারটি আসন রয়েছে যেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে দলটি প্রার্থিশূন্যতায় পড়েছিল। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব আসনে বিএনপির আসন শূন্যতা কেটে গেল।

বৃহস্পতিবার আপিল শুনানির প্রথম দিনের কার্যক্রম র্পযালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রার্থিতা ফেরত পাওয়া এই চারজন হলেন- ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ আসনের মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম), বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন, মানিকগঞ্জ ২ আসনের মো. আবিদুর রহমান খান।

খোঁজ নিয়েজানা গেছে, বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সরকার মিল্টন ও সরকার বাদল। এদের মধ্যে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত ছিল তিনি দুই বছরের অধিক সময় সাজাপ্রাপ্ত। আর বাদল উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। অন্যদিকে মোরশেদ মিল্টন পদত্যাগপত্র তাখিল করলেও দাখিল গ্রহণ হয়েছে মর্মে কোন প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি।

জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির একজন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার ক্ষেত্রেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত দেন।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এদের মধ্যে মঈনুল ইসলাম খানের (শান্ত) বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তার দলীয় মনোনয়নে মহাসচিবের স্বাক্ষরের সঙ্গে নমুনা স্বাক্ষরের মিল নেই। তার বিষয়টি আপিলের জন্য অপেক্ষামান রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহিত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিল করা আবিদুর রহমান খানের প্রার্থীতা বৃহস্পতিবার আপিলে ফেরত এসেছে।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপির দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এদের মধ্যে আপিলে খন্দকার আবু আশফাক তার প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। অন্যদের মতো আশফাকেরও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পদত্যাগপত্র কার্যকর না হওয়ার কারণে মনোনয়ন বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ আসনের আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা ও দলীয় মনোনয়ন যথাযথ না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হওয়া বিএনপির অপর প্রার্থী ফাহমিদা হোসাইন জুবলির আপিল অপেক্ষমান রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সিইসির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন যেসব দিক বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছে তার আলোকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আগামী দুইদিনের শুনানিতে বিএনপির শূন্য আসনে আরো একাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী এজলাসে এ শুনানি শুরু হয়। দু’দফা বিরতিসহ চলে সাড়ে পাঁচটা পর্যপ্ত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করছেন।

আপিল শুনানি পরিচালনা করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। আপিল করে প্রথমদিন বৈধতা পেয়েছেন ৮০জন।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পূনরায় শুনানি শুরু হবে। ক্রমিক নম্বর ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/৬ডিস্বের/জেআর/ইএস)