ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আপিল শুনানির প্রথম দিন বিভিন্ন দলের ৮০ নেতা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৩৯, আওয়ামী লীগের ১ এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৪১ জন। বৃহস্পতিবার ১৬০টি আপিল শুনানি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সময় ৭৭ জনের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। তিনটি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন দিনভর শুনানি শেষে এসব রায় দেন। দুটি বৈধ মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি হলেও সেগুলো খারিজ হয়ে যায়। ইসির রায়ের পর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। যাদের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেই উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২ ডিসেম্বর সারা দেশে ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন দেশের ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৪৩ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। প্রথম দিন এক থেকে ১৬০ ক্রমিক নম্বর পর্যন্ত শুনানি হয়। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন ১৬১ নম্বর থেকে ৩১০ নম্বর আপিলের শুনানি করবে ইসি। বাকিদের আপিল কাল শনিবার শুনানি হবে।

জানা গেছে, শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১, বিএনপি ৩৯, গণফোরাম ১টি, এলডিপি ২টি, জাকের পার্টি ৬টি, এনপিপি-১টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২টি, ইসলামী ঐক্যজোট ১টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২টি, মুসলিম লীগ ২টি, অন্যান্য দল ৯ ও স্বতন্ত্র ১৩টি। যে তিনটি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. সামসুল আলম ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ইমান আলী ও আবিদ আলভী।

এর আগে মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে সারা দেশের ৫টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না। প্রথম দিনের আপিল শুনানিতে ওই ৫টির মধ্যে ৪টি আসনের প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হচ্ছে- বগুড়া-৭, জামালপুর-৪, মানিকগঞ্জ-২ ও ঢাকা-১। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন বগুড়া-৭ এ প্রার্থিতা ফিরে পেলেন দলের নেতা মোরশেদ মিল্টন, জামালপুর-৪ আসনের মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম), মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান ও ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক। বাকি শূন্য আসনটির শুনানি প্রথম দিন হয়নি। আজ বা কাল হতে পারে। এছাড়া আপিলে ঝিনাইদহ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বিলখেলাপির দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।

জানা গেছে, প্রথম দিনের শুনানিতে বিএনপির কমবেশি ২০ জন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। এতে অনেক সিনিয়র নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ আসনের মির মোহাম্মদ নাসির, নাটোর-২ আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নামও আছে। তারা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। একই কারণে যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানাও তার প্রার্থিতা ফিরে পাননি। তারা সবাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসির এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সাবিরা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, আইনের শেষ ধাপ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। যদি আমার প্রতি ন্যায়বিচার করা হয় তবে আমি প্রার্থিতা ফিরে পাব। রায়ের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মির মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। এ রায় মানি না। ডেকে এনে নাটক মঞ্চস্থ করা হল। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উচ্চ আদালতের আপিলের ঘোষণা দেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষ হল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন প্রথম দিনের আপিল শুনানি করে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ শুনানিতে অংশ নিতে অনেক প্রার্থী ও তাদের আইনজীবীরা ইসিতে ভিড় জমান। তাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে অনেক প্রার্থীই সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, আমি অনেক খুশি। ইসির এ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। ময়মনসিংহ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তা আমলে নেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এখন প্রমাণিত হল আমি বৈধ প্রার্থী ছিলাম। ইসি ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির যে ৩৯ প্রার্থী : আপিল শুনানিতে বিএনপির যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা হলেন- বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আবদুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনের আবদুল মজিদ, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ আসনের মো. শাহজাহান, সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম, জয়পুরহাট-১ আসনের ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ আসনের মো. হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. আইনাল হক, খুলনা-৬ আসনের এসএ শফিকুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মো. জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-২ আসনের একেএম মুখলেছুর রহমান, চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরুল আমীন, কুমিল্লা-৫ আসনের মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, গাইবান্ধা-৩ আসনের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনের মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ আসনে মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক, ময়মনসিংহ-৩ আসনের আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবু আসিফ, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-১৪ আসনের সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আবদুল খালেক, রাজশাহী-১ আসনের মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ আসনের মো. হানিফ, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আবদুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ আসনের আবদুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এমএ মুহিত ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের।

স্বতন্ত্র ১৩ প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে : স্বতন্ত্র যেসব প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- ময়মনসিংহ-২ আসনের মো. আবু বকর সিদ্দিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান ও আশরাফ উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলম, বরিশাল-২ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, রংপুর-১ আসনের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ আসনের মোহাম্মদ আবু জাফর, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ ইউনুস আলী, সিলেট-৫ আসনের ফয়জুল মুনির চৌধুরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের আবদুর রহিম সরকার, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও বগুড়া-৫ আসনের মোহাম্মদ আবদুর রউফ মণ্ডল জন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।

অন্যান্য দলের যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন : অন্যান্য দলের যেসব প্রার্থি আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আফসার আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির পটুয়াখালী-১ আসনের সুমন সন্যামত, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের হবিগঞ্জ-১ আসনে জুবায়ের আহমেদ, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের হবিগঞ্জ-৪ আসনের মওলানা মোহাম্মদ ছোলাইমান খান রাব্বানী, চাঁদপুর-৫ আসনে এলডিপির মোহাম্মদ নেয়ামুল বশির, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাকের পার্টির শাহ আলম। আরও রয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনে জাকের পার্টির জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে এলডিপির এমএ বাশার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে গণফোরামের মাহফুজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৬ আসনের জাকের পার্টির মুহাম্মদ ফয়সাল বিন শালিক, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাসদের আনিসুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনে জাকের পার্টির তাজুল ইসলাম বাবুল, কুমিল্লা-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মো. শাহ আলম, যশোর-৬ আসনে জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ আসনে জেএসডির ফকির শওকত আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. হাবিবুর রাহমান, বগুড়া-২ আসনের বিএমএলের শফিকুল ইসলাম।