ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৭
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় যারা রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন তাদের মধ্যে মাত্র ১৭ দশমিক সাত ভাগ মানুষের এনএসওয়ান পজেটিভ (ডেঙ্গু আক্রান্ত) পাওয়া গেছে।

বুধবার রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

‘নলেজ শেয়ারিং অন ডেঙ্গু সার্ভিলেন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু সার্ভিলেন্সের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ মে থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল থেকে (ডেঙ্গু সংক্রান্ত রোগী সংরক্ষিত সব তথ্য) প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানে মোট ২৭ হাজার ৭৪২ জন মানুষের ডেঙ্গু পরীক্ষার হিসাব নেয়া হয়েছে। যেখানে চার হাজার ৯২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু পজেটিভ পাওয়া গেছে, যা মোট সংখ্যার ১৭ দশমিক সাত শতাংশ। বাকি ৮২ দশমিক তিন শতাংশের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু নেগেটিভ ফল পাওয়া গেছে।

এদিকে দুই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে ১ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪২ দিনে ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ৬৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকায় ২২১ এবং ঢাকার বাইরে ৪১৩ জন। ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৮ হাজার ৬১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এর মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ হাজার ২২৫ জন, যা হাসপাতালে মোট চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীর ৯৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে তিন হাজার ১৬৫ জন।

এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ৪৩৪ জন এবং অন্যসব বিভাগে এক হাজার ৭৩১ জন। সরকারের রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এ পর্যন্ত ১৯৭ জন মৃত রোগীর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ১০১ জনের তথ্য পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুই দিনে সাতজনের মৃত্যু : ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক শিশুসহ সারা দেশে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজনই নারী।

বুধবার ঢামেক হাসপাতালে খাদিজা আকতার (আড়াই বছর) মারা গেছে। বিকালে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির চাচা ইব্রাহিম জানান, ফ্যান কারখানার শ্রমিক ইসমাঈলের একমাত্র সন্তান খাদিজা ৭ সেপ্টেম্বর জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরদিন তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রহিমা বেগম (৫০) মারা যান। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আজরাইল গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী রহিমা। খু

লনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, রহিমাকে সোমবার বিকালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কুলছাত্র জিহাদের (১৪) মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর চিকিৎসক ডা. অসীত ভূষণ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে জিহাদ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ভর্তি হয়। বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

যশোর ব্যুরো জানায়, মনিরামপুর উপজেলার আবদুল কাদেরের স্ত্রী জাহিদা বেগম (৩৫) এবং একই উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামের ইনতাজ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) মারা গেছেন। বুধবার ভোরে জাহিদা এবং মঙ্গলবার ভোরে জাহানারা মারা যান।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুর রহিম মোড়ল জানান, রক্ত পরীক্ষায় জাহিদার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত জাহানারার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এবং রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার ভোরে মারা গেছেন।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা প্রতিনিধি জানান, ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজিহাটা গ্রামের রায়হান আলীর স্ত্রী মিনা খাতুনের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল আমীন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাদারীপুরের টেকেরহাট প্রতিনিধি জানান, রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণদী গ্রামের দফাদার সিদ্দিক মাতুব্বর (৬৫) মারা গেছেন। সোমবার গভীর রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, সিদ্দিক মাতুব্বর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।