ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
তফসিল ঘোষণার পর দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ আছে। কাজেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে পারত। এতে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে আরও সময় থাকত। যা ইসির জন্য সহায়ক হতো। জনগণের স্বার্থে সংলাপ সফলে সহায়তা করা ইসির দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে বলে তারা মনে করেন।

সেই বিবেচনায় তফসিল ঘোষণায় তড়িঘড়ি হয়েছে। এরপরও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন ইসির অনেক দায়িত্ব আছে। তারা আশা করেন ইসি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।

বিশিষ্ট নাগরিকরা বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেন- একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ অনেক কিছু নির্ভর করছে।

সে কারণে সবার দৃষ্টি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। কাক্সিক্ষত সেই নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সমঝোতা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ঘোষিত তফসিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে বিরোধী পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। অবশ্য বিরোধী পক্ষকে আস্থায় আনার দায়িত্ব এখন ইসির। তাদের ভূমিকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ইসি যদি সবাইকে সমানভাবে দেখতে পারে, তাহলে তাদের প্রতি এবং নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি কী হয় বলা যায় না। এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এতটুকু বলা যায়, অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কিছু হয়নি। তিনি বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নেই। অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নিলে সবাই সমান সুযোগ পাবে, সে রকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিরোধী দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে একটি অবাধ, সুষ্ঠ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর দেশের অনেক কিছু নির্ভর করছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছুই নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল। আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের দায় বেশি। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ নেই, ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। শেয়ারবাজার ভালো নেই। সবার দৃষ্টি ছিল নির্বাচনের দিকে। বিষয়টি রাজনীতিবিদদের বিবেচনা করা উচিত ছিল। আবু আহমেদের মতে, একটি সংলাপ হল। সংলাপে রাজনীতিবিদরা কোনো সমঝোতায় আসতে পারলেন না। এতে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ হতাশ হয়েছেন।

তফসিলের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রশাসন বিষয়ক কলামিস্ট আলী ইমাম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, মনোনয়ন দাখিলের সময় আর একটু বেশি দেয়ার দরকার ছিল। যেহেতু জানুয়ারির ২৮ দিন পর্যন্ত সংসদের মেয়াদ আছে, সে অনুযায়ী ভোট গ্রহণের সময় ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির প্রথম দিকে দেয়া যেত। যাই হোক, যা হওয়ার হয়েছে। এখন কিন্তু সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারা যেন নিজেদের সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করেন এবং নির্বাচন আচরণবিধি যেন সবাই মেনে চলে সেই কাজটি নিশ্চিত করে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার বিষয়ে অনেকেই দাবি করেছিল তারিখ পেছানোর। রাজনীতিবিদদের আরও সময় দেয়ার জন্য, যাতে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারেন। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাদের দায়িত্ব হল সুষ্ঠুভাবে সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। নির্বাচন মানেই হচ্ছে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভবপর হবে যদি রাজনৈতিক দলগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছে। একটা রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি হয়। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব এবং তাদের স্বার্থেই, জনগণের স্বার্থে সংলাপ সফল করার জন্য সহায়তা করা। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন কেন যে এটি তড়িঘড়ি করে করছেন, সেটা আমার কাছে বোধ্যগম্য নয়। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম যুগান্তরকে বলেন, তফসিল ঘোষণায় ব্যবসার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্টো মুদ্রণ শিল্প, সংবাদপত্র শিল্পের মতো আরও অনেক শিল্প চাঙ্গা হবে।

এছাড়া সহিংসতার আশঙ্কাও দেখছি না। কারণ গত নির্বাচনের ৬ মাস আগে থেকে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছিল। এবার সরকার বিরোধীরা জনমত বুঝতে পেরে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়া থেকে বিরত রয়েছে। তারা সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার দিকে যাচ্ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এমন কোনো কর্মসূচি প্রত্যাশা করি না, যাতে দেশ ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা করছি।