ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৮৭ রাজাকারের তালিকা

https://www.ppbd.news/https:/ppbd.news/national/135927
BYশওকত আলী সৈকত, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ:  ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৮ | আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪৮

প্রতীকী ছবি মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বহুবার রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তবে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সে তালিকা আজও প্রস্তুত হয়নি। প্রকাশ হয়নি দেশের কোন অঞ্চলে রাজাকারের কী ভূমিকা ছিল। আর সে সুযোগে রাজাকারসহ তাদের উত্তরসূরিরা দাবড়ে বেড়াচ্ছে সারা দেশ। যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত কলংকজনক একটি অধ্যায়।

তবে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণা করা লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের লেখনিতে উঠে এসেছে রাজাকারদের নাম ঠিকানা ও ইতিবৃত্তসহ বর্তমান অবস্থান। এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’, ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’ এবং রীতা ভৌমিকের ‘মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণঞ্জ’ নামক তিনটি বইয়ে প্রকাশ হয়েছে রাজাকারদের একটি তালিকা। এই তালিকায় কেবল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্যেই রয়েছেন ৮৭ জন।

এই তালিকায় নারায়ণগঞ্জের রাজাকার হিসেবে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে। শহরের চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী খান ছিলেন শান্তি কমিটির সভাপতি, দেওভোগের বাসিন্দা আলমাস আলী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, শহরের খানপুরের বাসিন্দা আবু মোহাম্মদ নাঈম আনসারী ও বাবুরাইলের বাসিন্দা সোলায়মান সর্দারের ছেলে আলমাস ছিলেন রাজাকার।

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সুতার ব্যবসায় নিযুক্ত হন। তিনি একজন রাজাকার। একই এলাকার এম. এ জাহের ছিলেন এমএনএ চিফ হুইপ। সে শান্তি কমিটির সদস্য।

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা কাদের মিয়া আলবদর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। শহরের জিমখানা এলাকার বাসিন্দা খোদা বগস ছিলেন রাজাকার। একই এলাকার রেলওয়ে কোম্পানির ক্রীড়াবীদ গুলজার ছিলেন রাজাকার কমান্ডার। একই এলাকার রেলওয়ে কোম্পানির দেলোয়ার (দুলু) ছিলেন রাজাকার।

দেওভোগের বাসিন্দা জায়েদ রাজাকার বাহিনীর সদস্য। বাবুরাইলের বাসিন্দা টুলু ছিলেন রাজাকার। পাইকপাড়ার এলাকার আব্দুল জলিল ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। খানপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত ছিলেন রাজাকার। জল্লারপাড়ার বাসিন্দা আমির আলী ছিলেন আলবদর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। পাইকপাড়ার আমীর আলী ছিলেন শান্তি কমিটির সেক্রেটারি। আমলাপাড়া বাসিন্দা আরজু মিয়া ছিলেন রাজাকার। বাবুরাইলের হোসেয়ারী শ্রমিক বারেক ছিলেন রাজাকার। সদর থানার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন ছিলেন রাজাকার।

গলাচিপার মুজাহিদ মো. আলী ছিলেন রাজাকার। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তিনি পাকিস্তান চলে যান। মিশন পাড়ার সিনেমার টিকেট ব্ল্যাকার বুড্ডু ছিলেন রাজাকার। শহরের রেলি বাগানের তরকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন ছিলেন রাজাকার।

জল্লাপাড়ার শামসুল হক ছিলেন আলবদর বাহিনীর সদস্য। দেওভোগের সিনেমা হলের টিকিট ব্লাকার শাহ আলম ছিলেন রাজাকার। পরবর্তীতে তিনি হোসেয়ারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন। গলাচিপার বাসিন্দা শাহ জামাল ছিলেন রাজাকার। বাবুরাইলের বাসিন্দা শাহজাহান ছিলেন রাজাকার।

ভূঁইয়াপাড়ার সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া শান্তি কমিটির সদস্য। দেওভোগের চিকিৎসক হাবিব ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। শহরের রেলি বাগানের হোসেন ছিলেন রাজাকার। বর্তমানে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে তাসকিনের জেনেভা ক্যাম্পের রিফুজি।

আবদুর রহমান রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত থাকায় স্বাধীনতার পর দালালী ও খুনের অভিযোগে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই রাজাকার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারী গোলাম মোস্তফাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

সদর থানার বাসিন্দা মো. আজগর ছিলেন রাজাকার। সদর থানার বাসিন্দা মো. জুলহাস মিয়া ছিলেন রাজাকার। ১ নম্বর বাবুরাইলের বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহম্মেদ মাহি ছিলেন রাজাকার। বাবুরাইলের বাসিন্দা মনির হোসেন রাজাকার। শহরের আলম খান লেনের বাসিন্দা ট্রান্সপোর্ট মিলন খান রাজাকার। মণ্ডলপাড়ার নাজিম মিয়া আলবদর বাহিনীর সদস্য। পাইকপাড়ার ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন মিয়া শান্তি বাহিনীর সদস্য। সদর থানার প্রিন্টিং প্রেসের মালিক নাজিরউদ্দীন আহমেদ শান্তি বাহিনীর সদস্য।

বাবুরাইলের সিগারেট ব্যবসায়ী হোসেন জামাল শান্তি বাহিনীর সদস্য। পাইকপাড়ার বাসিন্দা আমীর আলী শান্তি বাহিনীর সেক্রেটারি ছিলেন। কাশীপুরের মহসিন রাজাকার। এনায়েত নগর ইউনিয়নের ধর্মগঞ্জ গ্রামের রফিক দেওয়ানের ছেলে সালাম দেওয়ান এবং একই এলাকার রহমান মেম্বার রাজাকার এবং একই গ্রামের ফুল চান মেম্বার ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার আব্বাস, মোক্তার ও মোস্তফা, ঢাকা ভেজিটেবল কোম্পানির কর্মচারি ইকবাল, ফিদা খান, জামাল (অবাঙালি), বদিউজ্জামান, লতিফ রাজাকার। এবং একই গ্রামের ওমর আলী ডাক্তার, আলী আক্কাস মেম্বার, আইয়ূব খানের ছেলে মালেক উদ্দিন ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। একই ইউনিয়নের ফাজেলপুর গ্রামের গফুর (অবাঙালি) ছিলেন আলবদর বাহিনীর সদস্য।

বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা তালতলা গ্রামের একমাত্র মহিলা রাজাকার ছিলেন রিজিয়া। ফতুল্লা থানার বাসিন্দা ছায়েদ, রামারবাগের তরকারি বিক্রেতা জয়নাল, এনায়েতনগর ফাজিলপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন ও ফতুল্লা থানার বাসিন্দা সুবেদার খলিল ছিলেন রাজাকার। কাশিপুর ইউনিয়নের রেশনের ডিলার জালাল উদ্দিন আহাম্মদ শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া সোনামিয়া বাজার এলাকার মুসলিম লীগের সদস্য মোজাফর মেম্বার, গোদনাইলের মুনলাইট সিনেমা হলের মালিকের কুকুর পালক সফর আলী ভূঁইয়া, একই এলাকার হাশেম (হাসু), পেশাদার চোর কাশেম ছিলেন রাজাকার। এছাড়া একই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদ ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। এবং গোদনাইল এলাকার মসজিদের ইমাম আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন জিন্নাত আলী।

আদমজীনগর হাজের মিয়া রাজাকার ছিলেন, একই এলাকার রহিমুদ্দিন (অবাঙালি), সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের একজন ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। আদমজী জুট মিলের মোহাম্মদ ইসমাইল (অবাঙালি), আদমজী নগরের আলী হোসেন, আদমজীনগরের জব্বার সিদ্দিকী (অবাঙালি) ছিলেন রাজাকার ছিলেন।

লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের সবদার খানের ছেলে ইয়াকুব আলী খান (অবাঙালি), সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বাসিন্দা চান মিয়া সর্দার ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য, সুমিলপাড়ার সোনামিয়া বাজারের ডিসপেনসারির একজন কম্পাউন্ডার কুদ্দুস ডাক্তার, একই এলাকার মুসলিম লীগ সদস্য জামাল মেম্বার রাজাকার ছিলেন।

আদমজী নগরের বাসিন্দা জিন্নাত আলী মাতুব্বর ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। একই এলাকার তজুমদ্দিন (অবাঙালি) রাজাকার বাহিনীর সদস্য, আইলপাড়া গ্রামের (ইউনিয়ন সুমিলপাড়া বিহারি কলোনি, আদমজী জুট মিল) মুসলিম লীগের সদস্য বাদশা মিয়া ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার স্বাধীন বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক, সুমিলপাড়ার মুসলিম লীগের সদস্য মজিব মেম্বার, সিদ্ধিরগঞ্জের মো. মোস্তাফা রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই