ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৭

আমেরিকা যাওয়ার আগেই গণপিটুনিতে লাশ হলেন রেনু

https://www.ppbd.news/national/116140
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৯, ০১:২৫

রাজধানীর ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো তাসলিমা বেগম রেনুর আগামী জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার একমাত্র ভাই আলী আজগর ২৩ বছর ধরে বসবাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রায় সব প্রস্ততিই রেনু নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্ত তার আগেই ছেলেধরা অপবাদে তাকে পিটিয়ে লাশ বানানো হলো।

মেয়েকে ভর্তি করার জন্য উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার (২০ জুলাই) সকালে খোঁজ নিতে গিয়েছেলেন তিনি। আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ফটোকপি করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে বের হন। ওই দিন ছোট মেয়েকে খালার কাছে রেখে যান। নিহত রেনুর ভাগনি নূরজাহান বেগম মুন্নি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাসলিমা বেগম রেনুর এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। গত দুই বছর তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকতো। লক্ষীপুর শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নিহত রেনুর গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে।

পূর্বপশ্চিমের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান. রোববার সোনাপুর গ্রামে বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেল, পারিবারিক করবস্থানে মাটি খুঁঁড়ে করব করার কাজ চলছে। দুই বছর আগে মারা যাওয়া বাবার কবরের পশ্চিম পাশে তাকে শায়িত করা হবে। ঘরের ভেতর পরিবারের সদস্যরা কাঁদছেন। তাদের চোখে-মুখে স্বজন হারানোর চাপ।

নিহতের ভগ্নিপতি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী মো. বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না।

মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান , তাসলিমা বেগম রেনুর এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। গত দুই বছর তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকতো।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই/