ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৭

বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মুখরিত জনস্রোত

https://www.ppbd.news/national/119257
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট ২০১৯, ২৩:০১ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০১

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছিল।

ঈদের দিন কোরবানির পশু কাটাকাটি আর গোশত বিলি-বণ্টনে কেটে যায় সারাবেলা। ক্লান্ত শরীর নিয়ে খুব বেশি মানুষ বিনোদন কেন্দ্রমুখী হননি এদিন। তবে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার থেকে যেন বিনোদন কেন্দ্রগুলো জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগের কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক, শ্যামলীর শিশুমেলা, মিরপুরের ঢাকা চিড়িয়াখানা, বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্ক, আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম আর নন্দন পার্কসহ সব বিনোদন কেন্দ্রই ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত নির্মল আনন্দে ভেসেছে মানুষ।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে প্রবেশ করার জন্য টিকিট কাউন্টারে সংখ্যা বাড়ানো হয়। জাতীয চিড়িয়াখানার ভিতরে প্রবেশের পর জিরাফ, সিংহ ও ভারতীয় সাদা বাঘ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা বাঘ,হলিণ আর বানরের খাঁচার সামনে শিশুদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৮টা থেকে চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথ খোলা হলেও তার আগে থেকেই অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশুরা জাতীয় চিড়িয়াখানা দেখতে রাজধানী ও তার আশ পাশের এলাকাগুলো থেকে ছুটে আসে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে যানজট সৃষ্টি হয়। জাতীয় চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৭ প্রজাতির ২৭৬২টি প্রাণি রয়েছে।

বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির মধ্যে রয়েছে হরিণ, বাঘ, চিতা বাঘ, বানর, ভাল্লুক, সিংহ, হাতি, জলহস্তি, ঘোড়া, জিরাফ, জেব্রা, মায়া হরিণ, সাদা হংস, উট, বানর, বনগরু, শিয়াল, অজগর, ময়ূর, কাকাতুয়া, উটপাখি, প্যাঁচা, হুতুমপ্যাঁচা, টিয়া ও ময়না।

উত্তরা থেকে ঘুরতে আসা শিশু সাব্বির আহমেদ রাফির বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ঈদের সময় ভিড় বেশি থাকলেও আনন্দ আছে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে প্রত্যেকটি প্রাণির সঙ্গে পরিচয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা শিশুদের জন্য ভীষণ দরকার বলে মনে করেন তিনি।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর হাতিরঝিলও সেজেছে নতুন সাজে। নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে চক্রাকার বাস ও ওয়াটার বোট। রাজধানীর শ্যামপুরে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। পার্কে বসে অনেককেই গল্পে মশগুল থাকতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড এবং ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক ও সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য ভিড় ছিল।