ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:০৯

‌‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই’ এ অভিযোগ করে গতকাল (সোমবার) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক শুরুর ৭ মিনিটের মাথায় বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়ার একদিন পরই আরেকটি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন। সিইসিসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে এক সারিতে বসেন মাহবুব তালুকদার।

এসময় নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘ দিনের জটিলতা নিরসনের জন্য নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরে অনেকের পদোন্নতি হয়েছে এবং পদোন্নতির পেছনে যারা কাজ করেছেন বিশেষ করে মাননীয় কমিশনার মাহবুব তালুকদারসহ সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ দেই। কারণ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এতো অভিজ্ঞরা পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন।

মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে কেএম নূরুল হুদা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকার পরিবর্তন হয়। মাঠ পর্যায়ে আপনারা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হন তা বলবেন এবং এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সত্ত্বা। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কাজেই সাংবাধানিক দায়িত্ব থেকে কেউ কখনও বিচ্যুত হবেন না। আইনানুগ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নির্বাচন পরিচালনায় ব্রতী হবেন।

সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় সমগ্র জাতি একটি আবহ সৃষ্টি করে, জাতির মধ্যে আকুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়, নতুন সরকার গঠিত হয়।

ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য তাদের সাথে কাজ করা, সুশীল সমাজ, মিডিয়াসহ অন্যদের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতিকে প্রত্যাশিত নির্বাচন উপহার দিবেন বলে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সোমবার (১৬ অক্টোবর) কমিশনের ৩৬তম সভা শুরুর পর ৭ মিনিটের মাথায় মাহবুব তালুকদার বৈঠক ছেড়ে চলে যান। কারণ বৈঠকে তিনি ৫ দফা দাবিতে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি বলে পরে তিনি প্রেস বিফ্রিং জানান।

সেদিন মাহবুব তালুকদার সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্যান্যদের নিয়ে বৈঠক চালিয়ে যান সিইসি কে এম নূরুল হুদা। এ সময় কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বৈঠক উপস্থিত ছিলেন।

পরে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চলে গেলেও সভায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। সারাদিন সভা চলেছে।

সকালে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিকেলে প্রেস বিফ্রিংয়ে তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ৫ দফা প্রস্তাব দিতে চেয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। কিন্তু সেই সুযোগ না পাওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্টে (ভিন্ন মত) দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান।

/অ-ভি