ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৬

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

http://www.rtvonline.com/bangladesh/43785/ঝুঁকিপূর্ণ-শিশুশ্রম-নিরসনে-২৮৫-কোটি-টাকার-প্রকল্প
BYআরটিভি অনলাইন রিপোর্ট|  ১১ জুন ২০১৮, ২২:৪১ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৮, ২২:৫৮

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুশ্রম নিরসনে একটি কমিটি কাজ করছে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে এই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাসস।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সরকার দেশের আড়াই লাখ শিশু শ্রমিককে কারিগরি ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের(ডাইফ) মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূইয়া জানিয়েছেন, শ্রম আইন অনুযায়ী শিশুদের কাজে নিয়োগ করলে মা-বাবা, অভিভাবকসহ নিয়োগকারী কারখানার মালিক-কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, সরকার ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১১টি সেক্টর থেকে ৩৪১টি কারখানায় ৯০৩ শিশুকে শনাক্ত করেছে। পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৩৮টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

সামছুজ্জামান ভূইয়া জানান, গত কয়েক বছরে তৈরি পোশাকশিল্প এবং চিংড়িশিল্পকে শতভাগ শিশুশ্রম মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই বছর আরও ১১টি সেক্টরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশুশ্রম নিরসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১৮টি খাতে ১৭ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এরমধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত এবং দুই লাখ ৬০ হাজার শিশু অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

এসব শিশু হোটেল-রেস্তোরাঁ, ট্যানারি, শিপব্রেকিং পরিবহণ, কৃষি, গৃহকর্ম, নির্মাণ ,ইটভাঙা, লোহা কাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োজিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডাইফ মহাপরিদর্শক জানান, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালীসহ দেশের ৬টি জেলায় বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রম আইন অমান্য করে শিশুদের কর্মে নিয়োগ করায় মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুধু মামলা করে শিশুশ্রম নিরসন করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

কে/ এমকে