ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

ঢাকার সড়কের মাঝখানের গাছগুলো মরছে কেন? (ভিডিও)

http://www.rtvonline.com/exclusive/39204/ঢাকার-সড়কের-মাঝখানের-গাছগুলো-মরছে-কেনো
BYশাহাবুদ্দিন শিহাব, আরটিভি|  ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৫৬ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২৯

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারা যাচ্ছে রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বিভাজকের গাছ। অনেক জায়গায় আবার সড়ক বিভাজকে আবর্জনা ফেলায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। হুমকি মুখে পড়ছে দীর্ঘদিন ধরে বড় হওয়া গাছগুলো। অনেক জায়গায় আবার অজানা কারণে মারা পড়ছে বিশাল আকৃতির গাছ। যদিও সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।

পুরান ঢাকার টিকাটুলি থেকে পোস্তগোলাগামী সড়কে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বিভাজকটি নানা ধরণের গাছে পরিপূর্ণ। দীর্ঘ সময় নিয়ে বেড়ে ওঠা গাছগুলো সড়কের অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু এমন সৌন্দর্য সহ্য হচ্ছে না বিবেক ও রুচিহীন কিছু মানুষের। কোনো কারণ ছাড়াই নিয়ম করে গাছের গোঁড়ায় আবর্জনা ফেলছেন তারা। অথচ সড়ক বিভাজকের কয়েকশ’ ফুট দূরেই আছে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ডাস্টবিন।

এদিকে গৃহস্থালি আবর্জনা পেয়ে ইঁদুরের দল সেখানে মাটিতে বাসা বানাচ্ছে। মরতে শুরু করেছে সবুজ গাছগুলো। এভাবে একের পর এক গাছ মারা যাওয়ার পরও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের।-------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : আসছে বর্ষা, ‘মশার কারখানায়’ নজর দিচ্ছে না কেউ --------------------------------------------------------

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তাদের ময়লা আমার ওয়ার্ডে এসে ফেলে চলে যায়। এ ব্যাপারে মনিটর করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল আলমও সড়ক বিভাজকে ময়লা ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমাদের যে জনপ্রতিনিধি আছে তাদের একসঙ্গে করে সব সময়ে এই ব্যাপারটি পর্যবেক্ষণ করবো।

পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে সড়ক বিভাজকের বেশ কিছু পুরনো গাছও অজানা কারণে মারা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও স্থানীয়দের ধারণা, বজ্রপাতের কারণে এমনটি হয়েছে।

এদিকে রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে পরিকল্পিত বনায়ন করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব প্ল্যানারসের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে একেক রোডে একেক গাছ লাগালাম সেটি সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে না। এজন্য দরকার গবেষণার।

রাজধানীর সড়ক বিভাজকগুলোতে ঘটা করে গাছ লাগানো হলেও, নিয়মিত পরিচর্যা না করায়, অনেক গাছই মারা যায়।

এ ব্যাপারে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আলেয়া সারোয়ার ডেইজি বলেন, যে কেউ নিজ উদ্যোগে গাছ লাগাতে চাইলে আমরা গাছ ফ্রি দিতে পারবো। গাছগুলো লাগানোর থেকে এটি মেইন্টেন করাটা জরুরি বেশি।

এদিকে গাছ মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ‘গাছের শত্রু’ ইঁদুরকে দায়ী করে নিয়মিত তা নিধনসহ নিয়মিত দেখভালের পরামর্শ দিলেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা। আর বরাবরের মতো ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েই খালাস সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

গাছ রক্ষা এবং পরবর্তীতে বড় করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতায় অনেক গাছই মারা যায়। অবহেলা বা উদাসীনতার এমনই জ্বলজ্বলে দৃষ্টান্ত নগরীর অফিসপাড়া মতিঝিল থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত, সড়কের বিভাজক। এই এলাকায় বেশ কিছু গাছ এরইমধ্যে মারা গেছে। আরও কিছু মৃত্যুর প্রক্রিয়ায় থাকলেও কারো যেন কোন ভ্রুক্ষেপ-ই নেই!

একই অবস্থা, শাপলা চত্বর থেকে দৈনিক বাংলা হয়ে পুরানা পল্টন মোড় পর্যন্ত। এখানেও আছে, ইঁদুরের অসংখ্য গর্ত।

অপরদিকে পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ থেকে মালিটোলা পর্যন্ত বিভাজকে গাছের চিহ্ন খুঁজে পেতেই কষ্ট হয়। বোঝার উপায় নেই আসলেই এটি বিভাজক নাকি ফুটপাত!

গাছ বাঁচাতে, নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি, ‘গাছের শত্রু ইঁদুর’ নিধনে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান। তিনি বলেন, ঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয় না বলে গাছের নিচ থেকে মাটি সড়ে গিয়ে ওইখানে ইঁদুর আশ্রয় নেয়। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে যারা গবেষণা করেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

সব সময়ের মতো এইবারও এই সমস্যার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৪) হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনম। তিনি বলেন, নর্থসাউথ রোড, ইংলিশ রোড, জংশন রোডে মাটি খোঁড়া হয়েছে। আমারা এখানে ফুলের গাছ লাগাবো। আমারা চেষ্টা করছি এই গাছগুলোকে বেড়া দিয়ে রাখার জন্য এবং নাগরিক সচেতন সৃষ্টির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

কর্তৃপক্ষের এমন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং গ্রামের মতো শহরেও ইঁদুর নিধনের পাশাপাশি গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশায় নগরবাসী।

আরও পড়ুন : এসএস