ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

তরুণীর মাথা ন্যাড়া: গ্রেফতার ৩ ব্যক্তির রিমান্ডের আবেদন

http://news.zoombangla.com/জ-তরুণীর-মাথা-ন্যাড়া-গ্রে/
July 12, 2018
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নে চাঁদেরহাট কলেজপাড়ায় গ্রাম্য সালিশে প্রায়শ্চিত্তের নামে জোর করে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ২০ জনের নামে নীলফামারী সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বাদী শ্রীমতি বুলো বালা (৪৫) জানান, ২০১৩ সাল থেকে আমার মেয়ে লক্ষ্মী রানী রায় জেলা সদরের পপরচুলা তৈরীর একটি কারখানার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়া আসার পথে পরিচয়ের সূত্র ধরে কুচুকাটা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামের অটোবাইক চালক রবিউল ইসলামের সঙ্গে লক্ষ্মী রাণী রায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  সেই সূত্র ধরে গত ২ জুলাই  মেয়ে বাড়ি ছেড়ে রবিউলল ইসলামের বাড়িতে পাড়ি জমায়। পরবর্তীতে গত ৯ জুলাই রবিউলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সালিসের মাধ্যমে মেয়ে লক্ষ্মীকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে আমার বাড়িতে একই গ্রামের দ্বিনবন্ধু রায়, ‘পুস্প রায় ও সদানন্দ রায়সহ আরো অন্তত ২০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক সালিশ বসায়।’

‘সালিশে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, আমার মেয়ে মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম করে চলে গেছে তাকে হিন্দু সমাজে ফিরিয়ে আনতে  হলে তাকে প্রায়শ্চিত করতে হবে। এই বলে তারা আমার মেয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয় এবং মেয়ের শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় আমি, আমার শাশুড়ি এবং আমার মেয়ে প্রতিবাদ করলে সমাজের মহৎরা আমাদের এক ঘরে করে দেওয়ার হুমকি দেয়।’

‘এ ঘটনায় পরের ওই সকালে সাংবাদিকরা আমার বাড়িতে এসে ঘটনার জানতে চায়; কিন্তু গ্রামের মহৎদের হুমকির কারণে সেই সময় আমি বিচার চাওয়ার সাহস পায়নি। তবে বুধবার সন্ধ্যায় আমি বাদী হয়ে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আমি আমার মেয়ের অপমানের বিচার চাই।’’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নীলফামারী সদর থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত গ্রামের সুরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে দিনবন্ধু রায় (৪৩), মৃত ছতিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে পুস্প রায় (৪৫) ও প্রেম কুমার রায়ের ছেলে সদানন্দ রায়কে (৩০) গত বুধবার ভোরে আটক করা হয়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে ওই তিন জনকে মালায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের নীলফামারী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-১ আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এতে বিচারিক হাকিম মো. সামিউল ইসলাম ওই তিনজন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামী রোববার আবেদনের শুনানি দিন ধার্য করেন।’

88SHARESShareTweet

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ই-মেইল থেকে