ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
BY  হামিদ-উজ-জামান ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক। এ জন্য স্থাপন করা হচ্ছে সৌর বেসড স্টেশন। ফলে দুর্গম অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত ২৫ লাখ মানুষকে টেলিযোগাযোগ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে টেলিটকের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্যে ‘সৌর বেসড স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ভারতীয় তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (থার্ড এলওসি) থেকে ২৫৫ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা টেলিটক, বাংলাদেশ লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ১ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সুপারিশ প্রতিপালনের শর্তে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার একনেকে উপস্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের অক্টোবরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৪ সালে ২ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত হয়। ২০০৫ সালের ৩১ মার্চ টেলিযোগাযোগ সুবিধা সম্প্রসারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে টেলিটকের মার্কেট শেয়ার মাত্র ৩ শতাংশ। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কেট শেয়ার ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যপূরণে কোম্পানিটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নিজস্ব, সরকারি এবং বৈদেশিক সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেশের দুর্গম এলাকা যেমন: হাওর, বন, দ্বীপ, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকায় এখনও আধুনিক উচ্চগতিসম্পন্ন থ্রি-জি প্রযুক্তির টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এসব অঞ্চলে টাওয়ার বেসড স্টেশন নির্মিতব্য স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। তাই সেলুলার নেটওয়ার্ক স্থাপন কৌশলগতভাবেই চ্যালেঞ্জিং। এর বাইরে ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে বেস স্টেশন স্থাপন করা হলে জনবসতি না হওয়ায় ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ফেরত আনা যাবে না।

কারণ অন্যান্য এলাকার তুলনায় জনবসতি কম হওয়ায় রাজস্বও কম আদায় হবে। তবে সৌরচালিত স্টেশনের মাধ্যমে নিু পাওয়ার বেসড স্টেশন স্থাপন করা হলে নেটওয়ার্ক পরিচালনা ব্যয় কম হবে। ফলে দেশের দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক স্থাপনকে অধিক সহজতর করবে।

এর মধ্য দিয়ে দেশের যেসব এলাকায় বেসরকারি খাতের মোবাইল অপারেটরদের সেবা বিস্তৃত হয়নি, সেসব এলাকার জনগণকে টেলিটক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, সফট সুইচেস, মিডিয়া গেটওয়ে এইচআরএলএস এবং ডিজিএসএন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২ দশমিক ৫ জি’র ২০ লাখ এবং ফোরজির ৫ লাখ গ্রাহককে সুবিধা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া রেডিও একসেস নেটওয়ার্ক স্থাপন, শর্ট হল ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং এসডিএইচ মাল্টিপ্লেক্সার স্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সবীর কিশোর চৌধুরী একনেকের জন্য তৈরি সারসংক্ষেপে বলেন, সৌরচালিত স্টেশনের মাধ্যমে নিু পাওয়ার বেসড স্টেশন স্থাপন করা গেলে দেশের দুর্গম এলাকা অর্থাৎ হাওর, বন, দ্বীপ, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি এলাকায় এখনও আধুনিক উচ্চগতিসম্পন্ন থ্রি-জি প্রযুক্তির টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় ৪০০টি বিটিএস (টাওয়ার) স্থাপন করা হবে।

কিন্তু টেলিযোগাযোগ খাতে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশ দুর্যোগের বিষয় বিবেচনায় টাওয়ার নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

এ নীতিমালার আলোকে বিটিআরসি ইতিমধ্যে ৪টি টেলিকম টাওয়ার কোম্পানিকে লাইসেন্স দিয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত ৪০০টি টাওয়ার টেলিটকের মাধ্যমে নির্মাণ করার সুযোগ আছে কিনা তা পর্যালোচনার জন্য গত ৩০ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং সৌর বেসড টাওয়ার হওয়ায় এগুলো নির্মাণে কোনো দ্বৈততা সৃষ্টি হবে না।