ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর ভিডিও

http://www.rtvonline.com/others/technology/46343/কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা-ব্যবহার-করে-ছড়ানো-হচ্ছে-বিভ্রান্তিকর-ভিডিও
BYতথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন|  ১২ জুলাই ২০১৮, ১৫:৩৯ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ১৬:৫৭

ভুয়া খবর কী ভয়ানকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক জর্দান পিল একটি ফেইক ভিডিও বানিয়েছেন। অতি সম্প্রতি অস্কারজয়ী ‘গেট আউট’ চলচ্চিত্রের পরিচালক জর্দান ও বাজফিড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই ভিডিওটি বানিয়েছেন। ভিডিওটিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভুয়া খবর নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভিডিওটিতে সত্যিকার বারাক ওবামার উপস্থিতি ছিলো না। খবর প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের।

ভিডিওটি বাজফিডের ইউটিউব চ্যানেল থেকে আপলোড করা হয়। ভিডিওটিতে ওবামা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এখন যে কেউ নিজের খুশিমতো কথা যে কাউকে দিয়ে বলাতে পারে।

এই ভুয়া ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায়। ইউটিউবে ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৪৪ লাখ বার। -------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : ব্রিটেনে পাঁচ লাখ পাউন্ড জরিমানার মুখে ফেসবুক --------------------------------------------------------

ভিডিওটি বানানো হয় পিলের প্রোডাকশন কোম্পানির সহায়তায় পুরনো এবং নতুন প্রযুক্তির মিশেলে। পুরনো প্রযুক্তি অ্যাডবি আফটার ইফেক্টস এর সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেহারা পাল্টানোর টুল ফেইকঅ্যাপ ব্যবহার করে। ভিডিওটি দেখে আপনি কোনোভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন না কোনটা আসল আর কোনটা নকল ওবামা।

ফেইকঅ্যাপ নামক এই টুলটি প্রথম জনপ্রিয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে। প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমে জনপ্রিয় তারকাদের মুখ পর্ন তারকাদের মুখের ওখানে প্রতিস্থাপন করা হতো। শুধু এক দুইটি টুল ব্যবহার করেই যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্ভব সেটা এই ভিডিওটি থেকেই বুঝা গেছে।

শুধু এই টুলটিই নয়, অ্যাডবি ‘ফটোশপ ফর অডিও’ নামে নতুন একটি পণ্য আনতে যাচ্ছে যার মাধ্যমে মানুষের কথাও এডিট করা সম্ভব। এছাড়াও লায়ারবার্ড নামক কানাডিয়ান একটি স্টার্ট-আপ মাত্র কয়েক মিনিটেই যে কারো কণ্ঠ নকল করার সুবিধাযুক্ত টুল বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো এই ভুয়াভিডিও

এতোসব সুবিধা বাজারে আসলে যে কেউ চাইলে যে কারও মুখ থেকে যে কোনও কথা বলাতে পারবে। এতে ভুয়া খবর আর ভুয়া বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর সম্ভাবনা যাচ্ছে আরও বেড়ে।

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এরকম টুল বানানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট চিহ্নিত করা যাবে। কিন্তু সে টুল বাজারে আসার আগ পর্যন্ত ভুল তথ্য, ভুয়া খবর আর বিভ্রান্তিকর ভিডিও কীভাবে ঠেকাবেন।

সেই অর্থে আসলে ঠেকানোর কোনও উপায় নেই। অনলাইনে পাওয়া ভিডিও আর তথ্য চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বন্ধ করতে হবে। খুঁজতে হবে ভিডিওটার উৎস কি? যাচাই বাছাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয়া বন্ধ করতে হবে।

কেএইচ/এপি/জেএইচ