ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৬

টানা তিন ম্যাচে ১২০ মিনিট সমানতালে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া

http://www.dhakatimes24.com/2018/07/12/88606/টানা-তিন-ম্যাচে-১২০-মিনিট-সমানতালে-খেলেছে-ক্রোয়েশিয়া
BYআব্দুস সালাম মুর্শেদী

অনেকেই মনে করেছিলেন ম্যাচটা জমবে না। ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেভাবে লড়তে পারবে কিনা, সে ব্যাপারে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু আমার একটা বিশ্বাস ছিল, হিসেব ছিল, ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডকে মোটেও সহজে ছেড়ে দেবে না। যেটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বরং ভালো খেললো ক্রোয়েশিয়া। বলকান অঞ্চলের ছোট্র এই দেশের ফুটবল শৈলিতে আমি মুগ্ধ। তাদের গতিতে মুগ্ধ। স্ট্যামিনায় মুগ্ধ। প্রথমারের মতো তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেছে।আমি মনে করি, যোগ্য দল হিসেবেই তারা ফাইনালে ওঠেছে। তারা এটা ডেজার্ভ করে।

গত দুই ম্যাচে তাদের ১২০ মিনিট করে খেলতে হয়েছিল। মনে করেছিলাম, এ ম্যাচে ক্রোটরা কিছুটা ক্লান্ত থাকবেন শারীরিকভাবে। ম্যাচের শুরুতে সেটাই মনে হয়েছিল। বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো তাদের। ৫ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর মনে হয়েছিল, নাহ, আজ তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তাদের শারীরি ভাষাই সেটা জানান দিচ্ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে তারা ঘুরে দাঁড়ালো। সময় যত গড়িয়েছে তাদের ক্লান্তিও দূরে সেরে গেছে, গতি বেড়েছে ধেই ধেই করে। মনে হয়েছে, এত গতি, স্ট্যামিনা, টিম স্পিরিট তারা প্রথম দিকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল?

আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত ক্রোয়েশিয়া।দুর্দান্ত কয়েকটা আক্রমণ থেকে বেঁচে গেছে ইংল্যান্ড। ৫ মিনিটে ফ্রিকিকের গোল ছাড়া ইংল্যান্ডকে তো সেভাবে খুঁজই পাওয়া গেল না। ইংল্যান্ডের আসল শক্তিমত্তা এ ম্যাচে পুরোপুরি ফুটে ওঠেছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত বেলজিয়াম ছাড়া সেভাবে শক্ত দলকে ফেস করতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। বেলজিয়ামের কাছে তাদের হারতে হয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ইংল্যান্ড বাজে ফুটবল খেললো। ৫ মিনিটে এগিয়ে যাবার তারা চেয়েছিল ব্যবধান ধরে রেখে বাকি ৮৫ মিনিট কাটিয়ে দিতে। যেটা ইংল্যান্ডের কাছ থেকে আশা করিনি। এ ম্যাচে তাদের আসল দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। ইংল্যান্ড যে ফাইনালের আসলে যোগ্য নয়, সেটা তারা নিজেরাই প্রমাণ করেছে। ওদের খেলার ধরনে আমি খুবই বিরক্ত।

কোনো প্রশংসাই ক্রোয়েশিয়ার জন্য যথেষ্ঠ নয়।প্রশংসার দাবি রাখেন অধিনায়ক মদ্রিচ, মানজুকিচ, পেরিসিচরা। পুরো ম্যাচ জানপ্রাণ দিয়ে খেলেছেন। ছোট দেশ। ক্রেয়েশিয়ার এই চমকে গোটা দুনিয়া বিস্মিত। কিন্তু তাদের এমন ফলে যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে আমি মনে করি। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনাসহ ৫/৬ জন খেলোয়াড় ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেন। এঁরা সর্বোচ্চ মানের ফুটবলের মধ্যেই ছিলেন। বাকি দল গত ৬ মাসের নিবিড় অনুশীলন সেরেছেন বিশ্বকাপ উপলক্ষে। দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য তো আছেই।

সেমিফাইনালে যেভাবে খেলেছে তাতে ফ্রান্সের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল দারুণ জমে উঠবে বলে মনে হচ্ছে। উপভোগ্য একটা ফাইনালের ঘোষণা শুনতে পাচ্ছি। ফ্রান্সের মতো ক্রোয়েশিয়ারও আছে গতি। ফ্রান্স দলটি এক কথায় দুর্দান্ত। কিন্তু স্ট্যামিনা, দলীয় স্পিরিট দিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে ক্রোয়েশিয়া। সব মিলে আমি লড়াকু একটি ফাইনালের অপেক্ষায়।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী : সাবেক তারকা ফুটবলার