ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৫

জিম্বাবুয়েকে পিছিয়ে রাখতে চান না ক্রেমার

https://www.jagonews24.com/sports/cricket/403647
BYবিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৫ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার বাংলাদেশকে ফেবারিট মানছেন না। শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রাখতে নারাজ। তার মত, তিন দলই সমান। ত্রিদেশীয় সিরিজে লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে; কিন্তু তা কি করে হয়? বাংলাদেশের মাটিতে শেষ দুই সিরিজে জিম্বাবুয়ে চরমভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে। প্রথমে ২০১৪ সালে ৫-০‘তে ‘বাংলাওয়াশ। এরপর আবার ৩-০‘তে তুলোধুনো।

টানা আট ম্যাচে নাজেহাল হবার পরও বাংলাদেশের মাটিতে নিজেদেরকে টাইগারদের সমান সমান ভাবা কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্ন নিশ্চয়ই উঠছে। কিন্তু তারপরও কেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক তিন দলকে সমান শক্তিশালী বলে অভিহিত করেছেন?

সরাসরি মুখ ফুটে না বললেও ক্রেমার গত বছর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা আর তার আগে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ দুটিকে মনে মনে তুলনা করেছেন। ইতিহাস জানাচ্ছে, বাংলাদেশ ঘরের মাঠে শেষ দুই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে চরমভাবে নাকাল করলেও গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে সিরিজ ১-১‘এ ড্র করে এসেছে। আর একইবছর জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে লঙ্কানদের ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। তাই ক্রেমার ভাবছেন, তাহলে আমরাও বা কম কিসে?

তারপরও বাংলাদেশে এসে ভাল খেলা কঠিন- এ সত্য স্বীকারে দ্বিধা নেই, ‘কখনো কখনো বাংলাদেশ সফরটা বেশ কঠিনই হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ নিজেদের ঘরের মাঠে অনুকুল কন্ডিশনে সব সময়ই ভাল খেলে।’

এটুকু বলে আবার পরক্ষণে বলে ওঠেন, ‘আমাদের দলেও নবীন ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় আছে। যাদের একটা বড় অংশের বাংলাদেশে আগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আমরা ভালই চিনি। তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুবই পরিষ্কার। তবে, আমরা এবার আগের চেয়ে ভালভাবে প্রস্তুত। কারণ, আমরা এবার এসেছি শ্রীলঙ্কার সাথে ওয়ানডে সিরিজ বিজয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে।’

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এমন কথা বলতেই পারেন। কারণ, বাংলাদেশ গতবছর দুর্দান্ত খেলেও ঘরের মাটিতে লঙ্কানদের সিরিজ হারাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচ জিতলেও সিরিজ বিজয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে মাশরাফির দল। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও শেষ ম্যাচে উল্টো লঙ্কানরা জিতে যায়।

ঠিক তার দু’মাস পর গত বছর জুন-জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে। কাজেই ক্রেমার আগের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা এবার বাংলাদেশে এসেছি শ্রীলঙ্কার মাটিতে লঙ্কানদের হারানোর অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে।’

এছাড়া জিম্বাবুয়ের জন্য আরও বড় পাওয়া হলো ব্রেন্ডন টেলর, কাইল জার্ভিসের মত অভিজ্ঞ ও কার্যকর পারফরমার আবার ফিরে আসা। ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর আর পেসার কাইল জার্ভিসের দলে ফেরাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন অধিনায়ক ক্রেমার। তার মন্তব্য, ‘ব্রেন্ডন টেলর চলে যাবার পর মিডল অর্ডারে একটা বড় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল। যা পুরণ করা যায়নি। ব্রেন্ডন ফিরে আসায় আবার সে ঘাটতি দুর হয়েছে। তাকে পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের।’ এছাড়া কাইল জার্ভিসের অন্তর্ভুক্তিতেও বোলিং লাইনআপ সমৃদ্ধ হবে বলে বিশ্বাস ক্রেমারের। ‘আমরা জার্ভিসের হাতেই বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব অর্পন করবো।’

অভিজ্ঞ টপ অর্ডার হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দিকেও তাকিয়ে ক্রেমার। এ অভিজ্ঞ ও কুশলি ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে রান চান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। লম্বা ইনিংসও আশা করছেন, ‘আমি জানি হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ওপর এক বড় চাপ কাজ করবে; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সব চাপ কাটিয়ে উঠে তার দলকে সার্ভিস দেবার পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। সে অতীতেও যথেষ্ঠ অবদান রেখেছে। আমি চাই এ আসরেও মাসাকাদজা আমাদের শুভ সূচনা করে দেবে এবং বেশি সময় উইকেটে থাকবে।’

এআরবি/আইএইচএস/আরআইপি