ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬
BY  স্পোর্টস রিপোর্টার ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা, কুমিল্লা ও রংপুরের বিদায়ে ফাইনালের আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ যুদ্ধে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সের হৃদয় ভেঙে বহু আরাধ্য সেই প্রথম শিরোপার দেখা পেল আন্দ্রে রাসেলের রাজশাহী রয়্যালস।

জমজমাট ফাইনালে খুলনাকে ২১ রানে হারিয়ে গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে শিরোপা উৎসব করল রাজশাহী। এই টি ২০ টুর্নামেন্ট মাতিয়ে রাখা রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং টুর্নামেন্টসেরা।

ফাইনাল শেষে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী চার উইকেটে তুলেছিল ১৭০ রান। এরমধ্যে আন্দ্রে রাসেল (২৭*) ও মোহাম্মদ নওয়াজের (৪১*) টর্নেডো ব্যাটিংয়ে শেষ পাঁচ ওভারেই আসে ৭০ রান। রাজশাহীর ইনিংসের শেষভাগের এই ঝড়ই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় আট উইকেটে ১৪৯ রানে থামে খুলনা।

১১ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজকে হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল খুলনা। তৃতীয় উইকেটে শামসুর রহমান (৫২) ও রিলে রুশোর (৩৭) ৭৪ রানের জুটি একটু আশার আলো দেখালেও এ দু’জনের বিদায়ের পর বাড়তে থাকা রানরেটের চাপে ভেঙে পড়ে খুলনা।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ১৫ বলে ২১ করে রাসেলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতেই জয়ের সুবাস পেয়ে যায় রাজশাহী। শেষ ১২ বলে ৩১ রানের কঠিন সমীকরণ মেলানো সম্ভব হয়নি খুলনার পক্ষে।

রাজশাহীর হয়ে মোহাম্মদ ইরফান, আন্দ্রে রাসেল ও কামরুল ইসলাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মুশফিকের ভাগ্যটাই খারাপ। সাতবারের চেষ্টায় এই প্রথম ফাইনালে উঠেও পেলেন না শিরোপার দেখা।

মাঠে সেভাবে দর্শক টানতে পারছিল না এবারের আসর। কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিনে বিপিএলের ফাইনাল দেখতে ক্রিকেটপ্রেমীরা দুপুর থেকেই দলবেঁধে হাজির মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। টিকিট নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি।

চাহিদার সঙ্গে টিকিটের দামও যায় বেড়ে। মূল দামের কয়েকগুণ বেশি দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনেছেন দর্শকরা।

গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে টস-ভাগ্যটা খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের পক্ষেই যায়। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রান তাড়া করে জয়ের হার বেশি থাকায় ফাইনালে টস জিতে রাজশাহী রয়্যালসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মুশফিক। বোলিংয়ে শুরুটা দারুণ করেছিল খুলনা।

মোহাম্মদ আমির ও রবি ফ্রাইলিঙ্ক শুরুতেই চেপে ধরেন রাজশাহীকে। নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না লিটন দাস। আরেক ওপেনার আফিফ হোসেন দুই চারে দশ রান করে আমিরের দ্বিতীয় ওভারে আউট হয়ে ফেরেন। এরপর ইরফান শুক্কুর ও লিটন দ্বিতীয় উইকেটে তোলেন ৪৯ রান।

লিটন ধুঁকলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ইরফান। উইকেটে থিতু হয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিটন। ২৮ বলে ২৫ রানে আউট হওয়া লিটন স্বভাববিরুদ্ধ এক ইনিংসই খেললেন বিপিএলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। শোয়েব মালিকও ব্যর্থ। নয় রান করেন ১৩ বল খেলে।

তবে ইরফান হতাশ করেননি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ৪৫ রানের পর ফাইনালে করলেন হাফ সেঞ্চুরি। ৩৫ বলে ছয়টি চার ও দুই ছক্কায় সাজানো ইরফানের ৫২ রানের ইনিংসটিই দলের সর্বোচ্চ। ইরফানের বিদায়ের পর টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল ও মোহাম্মদ নওয়াজ।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে যে ঝড় তুলেছিলেন রাসেল, ফাইনালেও ধরে রাখলেন তার রেশ। ব্যাটিং তাণ্ডবে অবশ্য তাকেও ছাড়িয়ে যান নওয়াজ। পাঁচে নেমে ১৬ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রাসেল। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ২০ বলে অপরাজিত ৪১ রান করেন নওয়াজ।

তাদের দু’জনের যুগল তাণ্ডবে শেষ পাঁচ ওভারে ৭০ রান তোলে রাজশাহী। তাতেই নিশ্চিত হয় চ্যালেঞ্জিং স্কোর। খুলনার হয়ে মোহাম্মদ আমির দুটি এবং ফ্র্যাইলিঙ্ক ও শহিদুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট। রাজশাহী রয়্যালস ১৭০/৪, ২০

খুলনা টাইগার্স

১৪৯/৮, ২০

ফল : রাজশাহী রয়্যালস ২১ রানে জয়ী