ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৭
BYরাজীব হাসান, ডাবলিন থেকে
১৬ মে ২০১৯, ০০:৪৬

দুয়ারে বিশ্বকাপ, খেলোয়াড়টির নামও সাকিব আল হাসান। আজকের ম্যাচে ফিফটির পরপরই সাকিব মাঠ ছেড়ে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসায় দুশ্চিন্তা বাড়বেই। তবে দল সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের চোট ততটা গুরুতর নয়। বাড়তি সতর্কতা হিসেবেই ৫০ রান করার পর নিজে থেকে উঠে আসেন। ইনিংসের সেটি ৩৬তম ওভার। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪৬ রান দূরে। জানা গেছে, পিঠের পেশিতে হালকা টান পড়েছে সাকিবের।

সাকিব মাঠেও কিছুক্ষণ শুশ্রূষা নেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই পিঠে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। তাই ফিফটির পরপরই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এদিন সাকিব বল হাতে ৯ ওভার করেছেন, ফিল্ডিং করেছেন পুরো ৫০ ওভার। লিটনের সঙ্গে ৪৩ ও মুশফিকের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটিও গড়েছেন। এরপর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটিটা ২৩ রানে রেখে সাজঘরে ফেরেন।

সাকিবের ফেরার ভঙ্গিতেও গুরুতর কোনো চোটের আভাস ছিল না। তবু উদ্বেগ তো বাড়েই। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মিনহাজুল আবেদিন বলেছেন, ‘এখনই চোট নিয়ে তো ফিজিও কিছু বলবে না। আগে ভালো করে দেখে আগামীকাল জানানো হবে।’ কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবেও কি কিছু বলার উপায় নেই? বাংলাদেশি সাংবাদিকের আকুতি থেকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই সহায় হয়ে এলেন। সিঁড়ি বেয়ে সাজঘরে ঢোকার আগমুহূর্তে বলে গেলেন, ‘টেনশনের কিছু নাই।’

আয়ারল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়ই কমবেশি ধারাবাহিক। এর মধ্যে সাকিবের তৎপরতা আলাদা করে চোখে পড়ছে। প্রতিটি বলের জন্যই যেন নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে ধরলে আয়ারল্যান্ডে যে চার ইনিংসে ব্যাট করেছেন, তিনটিতেই ফিফটি। এর মধ্যে দুই ইনিংসে অপরাজিত। আজ ৯ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। এর মধ্যে ১ ওভারে ২৩ রানও হজম করেছেন। যেটি সাকিবের ক্যারিয়ারেই সবচেয়ে খরুচে ওভার।

২২তম ওভারে আক্রমণে এসেছিলেন, প্রথম বলেই ক্যাচ উঠেছিল। পয়েন্টে ক্যাচটা না পড়লে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেটের ডাবল ছোঁয়ার নতুন দ্রুততম রেকর্ডটা হয়ে যেত। ২৩ রান দেওয়া ওভারটির আগেও সাকিব এই সফরের মতোই আঁটসাঁট বোলিং করেছেন। শেষ পর্যন্ত রানটা আটকাতে পারেননি। তবে প্রথম দুই ম্যাচে ২ উইকেট নিলেও দিয়েছেন মাত্র ৬০ রান।

সাকিব মানে তো বাংলাদেশ দলের একের ভেতর দুই খেলোয়াড়। সামান্য চোটেও তাই বাড়তি টেনশন। মাশরাফির কথাটাই যেন শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়। সাকিবের চোট শেষ পর্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হবে না বলেই আশা সবার।