ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

এরদোয়ানই হচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট?

http://bdsaradin.com//এরদোয়ানই-হচ্ছেন-তুরস্কের/
BYআন্তর্জাতিক | ২০১৮, জুন ২৫ ০৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
নিজের বাসভবনে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন এরদোয়ান। ছবি: রয়টার্স তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী জোট ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ে এখন পর্যন্ত অনেক এগিয়ে ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স। সংসদীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৯৪ দশমিক ১৭ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। যার মধ্যে এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে পিপলস অ্যালায়েন্সের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাররেম ইনজের দল সিএইচপি’র নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩৪ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোট। তবে এসব ফলাফল অনানুষ্ঠানিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়েও এগিয়ে এরদোয়ান। মোট প্রাপ্ত ভোটের ৯৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ এর মধ্যে গণনা হয়েছে বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট। আর মুহাররেম ইনজে পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট। এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনাদোলু জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ আর ইনজে পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট।ভোট দিচ্ছেন মুহাররেম ইনজে। ছবি: রয়টার্স

এই নির্বাচন ২০১৯ সালের নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ইচ্ছাতেই নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনা হয়। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে আইন করার পর এটি দেশটির প্রথম নির্বাচন। নতুন এই সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতেই। নির্বাচিত হলে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ তুরস্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন এরদোয়ান।

ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নিজেকে বিজয়ী বলে ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইসাতানবুলে নিজের বাসভবনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘অনানুষ্ঠানিক ফলাফল পরিষ্কার হয়েছে। এই ফলাফল মোতাবেক, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে জাতি আমার ওপরই আস্থা রেখেছে।’ এরদোয়ান সমর্থকদের উল্লাস। ছবি: রয়টার্সএকে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিরোধী জোটের প্রতি ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা থাকবে নিজেদের পরাজয় আড়াল করতে কেউ এই ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।’ তবে এরদোয়ানের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলীয় জোট ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স। তাদের দাবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ৫০ শতাংশ ভোট এরদোয়ান এখনো পাননি। এখনই ফলাফল ঘোষণাকে অনেক দ্রুত বলে মনে করছে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স জোট। তুরস্কের প্রধান নির্বাচন কাউন্সিল এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। ছবি: এএফপি

দেশটির সংসদে নেতৃত্ব দিতে যে কোনো জোট কিংবা দলকে ৬০০ আসনের মধ্যে ৩০০ আসন গঠন করতে হবে। আর প্রেসিডেন্ট হতে হলে মোট প্রাপ্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে হবে। রোববারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে আগামী ৮ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট হবে। সেদিন সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তালিকায় প্রথম দুজন নির্বাচনে অংশ নেবেন।

প্রসঙ্গত, রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ান ও মুহাররেম ইনজে ছাড়াও আরও চারজন অংশ নিয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ১১ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এরদোয়ান।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দনের বার্তা পেয়েছেন এরদোয়ান। এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন আল-তানি, হাঙ্গেরিয়ান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও আলবেনিয়ান প্রধানমন্ত্রী এডি রামা।

রক্ষণশীল ও ধার্মিক এবং অপেক্ষাকৃত প্রবীণ তুর্কিরাই এরদোয়ানের কট্টর সমর্থক। এরদোয়ানের আগে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম ছিল। এরদোয়ান এসে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছেন। এরদোয়ানের আমলে তুরস্কের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ঢালাওভাবে উন্নয়ন হয়েছে। যদিও বিরোধী দলের কাছে এরদোয়ান একনায়ক ও স্বৈরাচারী নেতা হিসেবেই পরিচিত।

Share this: