ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

ভ্যালেন্টাইনস ডে’র আসল ইতিহাস কি জানেন?

http://news.zoombangla.com/ভ্যালেন্টাইনস-ডের-আসল-ই/
February 14, 2018
জুমবাংলা ডেস্ক : ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন করছেন, অথচ এইদিনের ইতিহাস জানবেন না? রেভারেন্ড ভিক্টর মলকা, যিনি ওহিয়োর বেথেলপার্কে অবস্থিত সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ক্যাথলিক চার্চের প্যাস্টর ছিলেন, তাঁর একটি লেকচার থেকে জানা যায় সেই ইতিহাস।

সে অনেক আগের কথা। রোমসম্রাট ক্লডিয়াসের ছিল যুদ্ধনেশা। প্রেমও করে না, বিয়েও করেনি -এমন যোদ্ধা চাইতেন তিনি। আইন জারি করলেন, যুবকরা প্রেম করলেই মৃত্যুদণ্ড! তবে যুদ্ধ করে বন্দিনী নারী সম্ভোগ তার দৃষ্টিতে বা সেনাবাহিনীতে দোষের ছিল না। কিন্তু খ্রিস্ট ধর্মের এক দরবেশ বা সেইন্ট তার এই আইনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করতে লাগলেন খ্রিস্টানদের। তিনি প্রচার করতে লাগলেন, ভালোবাসাকে পবিত্র রেখো। কেননা তা ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে। বিয়ে দিয়ে প্রেমিক যুগলদের ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেন ভ্যালেন্টাইন। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী তাদের প্রেমকে পবিত্র রাখতে ভীড় জমাতে লাগলো সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের কাছে। এ যেন ভালোবাসার পক্ষে রীতিমতো এক বিপ্লব। যাদের মনে স্বর্গীয় ভালোবাসা, তারা কি আর যুদ্ধে গিয়ে রক্তপাত করতে চায়?  সম্রাট ক্লডিয়াস গুপ্তচরদের মাধ্যমে  তরুণ যোদ্ধা সংকটের কারণ জানতে পেরে ক্রোধে ফেটে পড়লেন। ভাবলেন, ভ্যালেন্টাইনকে বাঁচিয়ে রাখা মোটেই ঠিক হবে না। ভালোবাসার দরবেশকে বন্দী করা হলো।

ওহিয়োর  সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনস চার্চের দেয়ালে চিত্রিত হয়েছেন প্রেমিক যুগলের বিয়ে দেয়ার অপরাধে শহীদ হওয়া খ্রিস্টান দরবেশ এদিকে, মূর্তিপূজারী সম্রাটের কারাধ্যক্ষ অ্যাস্টেরিয়াসের একটি জন্মান্ধ মেয়ে ছিল। খ্রিস্টানদের কাছে তিনি যখন শুনলেন যে, ভ্যালেন্টাইন একজন দরবেশ; তখন তিনি ভাবলেন- ‘যদি তিনি সত্যিই কোনও দরবেশ হয়ে থাকেন, নিশ্চয় আমার মেয়েকে ভালো করে দিতে পারেন’। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ঈশ্বরের কাছে যিশুর দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করলেন। তারপর মেয়েটির চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন। দৃষ্টি ফিরে পেলো সে। বাতাসের বেগে ছড়িয়ে যায় সংবাদ। কারাধ্যক্ষ প্রমাণ পেলেন যে, বন্দী ভ্যালেন্টাইন কোনও সাধারণ পাদ্রী নন। ্তিনি দ্রুত ঘরে ফিরে দেবতার মূর্তি ভেঙে যিশুর ধর্মকে স্বীকার করে নিলেন। 

এরই মধ্যে কারাগারে ভ্যালেন্টাইনের কাছে মৃত্যু পরোয়ানা এসে গেলো। মানবপ্রেমের পর এবার ঈশ্বরপ্রেমের প্রমাণ দিলেন তিনি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে লাগলেন তাঁকে কাছে ডেকে নেয়ার জন্য। ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভক্তদের উদ্দেশে পৌঁছে ভ্যালেন্টাইনের লেখা চিঠি। এতে নিজের মৃত্যুর খবর জানিয়ে উপদেশ দেন, ‘তোমাদের প্রেমের অমর্যাদা করো না। আর তাকে অপবিত্র করো না। পরস্পরকে আজীবন ভালোবেসো। ইতি- তোমাদের ভ্যালেন্টাইন।’

পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে ভ্যালেন্টাইনের নামে গির্জা রয়েছে। সেখানে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় বেশিরভাগ দেশেই ভ্যালেন্টাইনের মূল শিক্ষাকে আড়াল করে সাজসজ্জার সামগ্রী আর বিনোদন বাণিজ্যের দিন বানানো হয়েছে।

1.2kSHARESShareTweet

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ই-মেইল থেকে