ঢাকা, শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ভারত থেকে ফিরলেন আড়াই হাজার বাংলাদেশি, পজিটিভ ১৪ জন

https://www.ppbd.news/https:/ppbd.news/whole-country/200457/ভারত-থেকে-ফিরলেন-আড়াই-হাজার-বাংলাদেশি,-পজিটিভ-১৪-জন
BYবেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ০৮ মে ২০২১, ২২:৫০

করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এ পর্যন্ত ভারত থেকে ফিরেছেন ২ হাজার ৫৬০ জন বাংলাদেশি যাত্রী। এদের মধ্যে ১৪ জনের ছিল করোনা পজিটিভ। আক্রান্তরা ভারতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হন। তাদের যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে রাখা হয়েছে।

শনিবার (৮ মে) যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউছুফ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

এদিকে চিকিৎসা শেষে ভারত ফেরত অসহায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও অর্থ খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

জটিল রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাসহ যানবাহন ও হোটেল খরচ সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হোটেল ভাড়া অর্ধেক নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে হোটেল মালিকদের।

ইমিগ্রেশনে দালাল শ্রেণির বহিরাগতদের প্রবেশ রোধেও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সকালে বেনাপোল বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও ইমিগ্রেশন ভবনে সাঁটানো যাত্রী সুবিধার এমন নোটিশ চোখে পড়ে।

ভারত ফেরত যাত্রী জহিরুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাতে অনেকটা তারা উপকৃত হবেন। চলমান ক্রান্তিকালে এ নির্দেশনা বহাল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শার্শা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলীফ রেজা জানান, ভারতফেরত যাত্রীরা যাতে কোনোভাবে দালাল শ্রেণির মানুষের দ্বারা হয়রানির শিকার না হয় এ জন্য ইমিগ্রেশন ও বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের একাধিক জায়গায় বিভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়ে ব্যানার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জটিল রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র পরীক্ষা করে হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার বিচিত্র মল্লিক জানান, গত শুক্রবার ভারত থেকে ৩১৮ জন ফিরেছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ। এরা ভারতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্ত যাত্রীদের যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে ও সাধারণ যাত্রীদের যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের ১৪ দিন হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, ভারতের করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট রোধে বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের ভ্রমণ সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে নতুন করে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী দুদেশের মধ্যে যাতায়াত করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে যারা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আটকা পড়েছিল তারা ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরছেন।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের রেড জোনে শনিবার ২৮ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতফেরত ১৬ জন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমিত ১২ জন রোগী রয়েছেন। শনিবার করোনা সংক্রমিত হয়ে ভারত থেকে ফেরা এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, ভারতফেরত আট করোনা রোগীর আলাদা দুটি পরীক্ষাগারে করোনা ও করোনাভাইরাসের ভারতীয় নতুন ধরন পরীক্ষা করা হয়েছে। ফল ভালো ছিল। এ ছাড়া ভারত থেকে আসা অপর ১৬ জনের পরীক্ষার জন্য গত ৬ মে নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দ্বিতীয় দফায় করোনার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২ জন করোনা পজিটিভ ও ১২ জনের নেগেটিভ এসেছে। বাকি দুজনের ফলাফল আসেনি। তাদের করোনা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাসের ভারতীয় নতুন ধরন শনাক্তের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো প্রতিবেদন আসেনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস