ঢাকা, রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৭

সুচন্দা আত্মজীবনী লিখছেন, চম্পা ব্যস্ত কী নিয়ে?

https://www.dhakatimes24.com/2021/05/03/212737/সুচন্দা-আত্মজীবনী-লিখছেন-চম্পা-ব্যস্ত-কী-নিয়ে
BYবিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

বাংলা চলচ্চিত্রের তিন উজ্জ্বল নক্ষত্র সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। সম্পর্কে তারা আপন তিন বোন। তাদের মধ্যে বড় সুচন্দা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওপেন হার্ট সার্জারি করার পর থেকেই অনেকটা ঘরবন্দি দিন কাটছে তার। তবে অলস এই সময়টাকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। সুচন্দা লিখছেন আত্মজীবনী। এর পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগিতেও করেছেন মনোনিবেশ। সবমিলিয়ে নিজের মতো করে জীবনযাপন করছেন চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় অভিনয় করা ষাটের দশকের এই গুণী অভিনেত্রী।

কেমন কাটছে বর্তমান দিনকাল, জানতে যোগাযোগ করা হয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচন্দার সঙ্গে। ঢাকা টাইমসকে সুচন্দা বলেন, ‘নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা এক সুতায় বাঁধার চেষ্টা করছি। বলা যায়, ঘরবন্দি সময়টাকে কাজে লাগানো। অবশ্য আত্মজীবনী লেখার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল। সময় বের করতে পারিনি বলে এতদিন হয়ে ওঠেনি। এখন চেষ্টা করছি সেটি গুছিয়ে লিখতে। আশা করছি, শিগগিরই কাজটি শেষ হবে।’

সুচন্দা আত্মজীবনী লিখলেও তার মেজো বোন ববিতার জীবন কাটছে অনেকটা নিঃসঙ্গ অবস্থায়। থাকছেন গুলশানের নিজ বাসায়। একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় থাকায় তার ঘরবন্দি সময়টা কাটছে রোজা রেখে, নামাজ পড়া, কোরআন পড়ে এবং ছাদ ও বারান্দার নানা গাছগাছালির যত্ন নিয়ে। নিয়ম করে ভিডিওকলে কথা বলেন কানাডায় থাকা ছেলে অনিক, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভাইদের পরিবার ও দেশে থাকা দুই বোনের সঙ্গে।

কিন্তু ছোট বোন চম্পার কী করছেন? করোনার সময়টাতে তিনি কি করছেন? জানতে চাইলে নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আল্লাহ রাসুলের নাম নিয়ে বাসাতেই সময় কাটাই। করোনার মধ্যে ঘর থেকে বের হই না। নিজের সংসারের দিকে খেয়াল করি। যেহেতু রমজান চলছে, আলাদা একটা সময় ইবাদাত বন্দেগিতে চলে যায়। আগে তো দুই একটা বোনের বাসায় যেতাম। এখন একেবারেই বের হচ্ছি না।’

বড় বোন সুচন্দা তো অবসর সময়ে আত্মজীবনী লিখছেন, আপনারও এমন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে চম্পা বলেন, ‘করোনার মধ্যে আসলে অন্য কিছু মাথায় আসে না। নামাজ-রোজা করি। আপাতত আত্মজীবনী লেখার কোনো পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে হয়তো এ ধরনের কোনো চিন্তা ভাবনা করতে পারি।’

সুভাস দত্তের নির্মিত ‘কাগজের নৌকা’ (১৯৬৬) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমায় অভিষিক্ত হন সুচন্দা। ১৯৬৮ সালে তিনি বিয়ে করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানকে। নির্মাতা হিসেবেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে উপন্যাসিক ও নির্মাতা জহির রায়হানে নন্দিত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুচন্দা। ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের জোরাজুরিতেই ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে চম্পার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মডেলিং দিয়ে। এরপর তিনি টিভি নাটকে অভিনয় করতে থাকেন। ১৯৮৫ সালে শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিন কন্যা’ ছবির মাধ্যমে চম্পার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। এই ছবিতে তার অপর দুই বোন সুচন্দা এবং ববিতাও অভিনয় করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। উপমহাদেশের বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিত রায়ের ছেলে সন্দ্বীপ রায়ের ‘টার্গেট’, বুদ্ধদেব দাশ গুপ্তের ‘লালদরজা’, গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’সহ ১০০টিরও বেশি ছবিতে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে অভিনয় করেন।

এক যুগের ক্যারিয়ারে পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), অন্য জীবন (১৯৯৫) ও উত্তরের খেপ (২০০০) ছবি তিনটির জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন চম্পা। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে শাস্তি (২০০৫) ও চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮) ছবি দুটির জন্য পেয়েছেন আরও দুটি জাতীয় পুরস্কার। চম্পাকে শেষ দেখা গেছে ২০১৮ সালে ‘ইনস্পেক্টর নটিকে’ ছবিতে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার মায়ের চরিত্রে।

১৯৬৫ সালের ৫ জানুয়ারি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন চম্পা। গুলশান আরা আক্তার চম্পা। দুই বোন সুচন্দা ও ববিতা ছাড়াও তার তিনটি ভাইও রয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ তার চাচাতো ভাই। ব্যক্তিগত জীবনে চম্পা ১৯৮২ সালে শহিদুল ইসলাম খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যাসন্তান থাকে কানাডায়। সেই সূত্রে মাঝেমধ্যে কানাডায় গিয়ে থাকতে হয় চম্পাকে।

ঢাকাটাইমস/০৩মে/এএইচ/এমআর