ঢাকা, শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেবীদ্বারে দেবরের হামলায় ভাবির মৃত্যু, আহত ৭

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2021/05/09/1031806
BYদেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামে দেবরের হামলায় সাহেনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরো ৭ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার সকাল ১০টায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামের বজলু মেম্বারের বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় শতাংশ জমি নিয়ে মৃত মফিজুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম ও জসীম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী চাচা মো. বজলু মেম্বারের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার সময় জোরপূর্বক ওই জমিতে বজলু মেম্বার তার সমর্থকদের নিয়ে নতুন ঘর উঠাতে গেলে তারেকুলের পরিবার বাধা দেন। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় তারেকুল ইসলাম (৪২), তার মা সাহেনা বেগম (৬৫), তারেকুল ইসলামের স্ত্রী মোসা; আসমা বেগম (২৫) ও ভাই জসীম উদ্দিন (২৫) সহ প্রায় ৭ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে তারেকুল ইসলাম, তার মা সাহেনা বেগম ও স্ত্রী আসমা বেগমকে দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনায় শনিবার দুপুরে তারেকুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম বাদী হয়ে বজলু মেম্বারসহ ৮ জনের নামে এবং ২/৩ জন অজ্ঞাত দেখিয়ে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরই মধ্যে বজলু মেম্বারের ছেলে মো. হুমায়ুন কবিরকে আটক করে পুলিশ। বিকেল সাড়ে ৩টায় তারেকুলের মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেনা বেগম মারা যান।

নিহত সাহেনা বেগমের ছেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত তারেকুল ইসলাম বলেন, আজ যেভাবে আমার চাচা বজলু মেম্বার তার দলবল নিয়ে মাকে হত্যা করেছেন, তেমনিভাবে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই ৩৩ বছর পূর্বে দেওয়াল চাপায় আমার বাবাকে হত্যা করেছিল, আমি আমার বাবা-মা’য়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে, সংঘাতে আহত তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর বিকেল সাড়ে ৩টায় সাহেনা বেগম (৬৫) নামে একজন মারা যান। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে, রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই ঘটনায় নিহত সাহেনা বেগমের পুত্রবধূ বাদী হয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন যা হত্যা মামলায় পরিণত হবে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।