ঢাকা, শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সোনালু ফুলের সোনালী রঙে শোভিত মহাসড়ক

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2021/05/09/1031809
BYরণবীর ঘোষ কিংকর, চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

সবুজ পাতাকে ছাপিয়ে সোনালী রঙের ফুলে সজ্জিত গাছটির নাম সোনালু। গ্রীষ্মের রুক্ষ প্রকৃতিতে প্রাণের সজিবতা নিয়ে গাছের প্রতিটি ডাল-পালায় থোকায় থোকায় অলংকারের ন্যায় শোভা পায় সোনালু ফুল। কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মের দক্ষিণা হাওয়ায় সোনা ঝড়া সোনালু ফুল যেন প্রকৃতির কানে দুলছে দুল।

প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম রূপে সাজিয়ে তুলতে সোনালু ফুলের জুড়ি নেই। পরিবেশ ও প্রকৃতির শোভা বর্ধণে সোনালু দারুণ এক নিসর্গ মায়া এনে দিয়েছে। দীর্ঘ মঞ্জুরিতে ঝুলে থাকা পাঁচ পাঁপড়ি বিশিষ্ট সোনালু ফুলের থোকা অনেকটা অলংকারের মতো। গ্রামের শিশু-কিশোরীরা এখনো ওই ফুল কানে দুল লাগিয়ে খেলায় মত্ত হয়।

সোনালু ফুলের আভায় শোভিত দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও। মহাসড়কটিকে ফোর লেনে রূপান্তরের পর সড়ক বিভাজনের (ডিভাইডার) ওপরে লাগানো হয়েছে অনেক শোভা বর্ধণকারী ফুল গাছ।

গত দুই বছর যাবৎ ওইসব গাছগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে নানা রকম ফুল। তবে গ্রীষ্মের এই সময়ে সোনালু ফুলের সোনাঝড়া রূপে মাতোয়ারা গাড়ি চালক-যাত্রী ও পথচারীরা। অনেক পথচারী ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য প্রাণ খুলে উপভোগ করতে দেখা গেছে।

মহাসড়কের চান্দিনা পালকি সিনেমা হল থেকে হাড়িখোলা পর্যন্ত ও আলেখারচর এলাকায় সারি সারি সোনালু গাছে ফুটেছে হলুদ ফুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় প্রাইভেটকার থামিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে দুই যুবক রাকিব ও তামিমকে। তারা প্রাইভেটকার যোগে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

বাংলাদেশের সিংহভাগ সোনালু গাছ জন্মায় প্রাকৃতিকভাবে। প্রকৃতির শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ গুণাবলী সম্পন্ন এই গাছটি বেশির ভাগই বেড়ে উঠছে অযত্ন-অবহেলায়। রোপণের সংখ্যা একেবারেই কম। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফোরলেন বিভাজনের ওপর রোপণ করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। আর এতেই পিচঢালা কালো উত্তপ্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান সোনালী বর্ণে সেজেছে।

সোনালু ফুলের শোভায় মুগ্ধ হয়ে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক জাকির হোসেনও লিখেছেন কবিতা-

বসুন্ধরায় বৃক্ষ রাজী সবুজই তার প্রকৃতি, সবুজ পত্রে সোনালু ফুল কিশোরীর কানের দুল।

তথ্য নিয়ে জানা যায়, সোনালু গাছের পাতা ও বাকল ভষজগুণ সমৃদ্ধ। যা ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এ গাছ জন্মে বেশি। সোনালু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কেসিও ফেস্টুলা এবং প্রকৃত শুদ্ধ নাম কর্ণিকার। ইংরেজিতে এর নাম গোল্ডের শোয়ার। তবে বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে নামেও রয়েছে ভিন্নতা।

কুমিল্লার পর্যটন এলাকা শালবনসহ জেলা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য সোনালু গাছ। সড়ক-মহাসড়কসহ গ্রামাঞ্চলের মেঠো পথে, বাগানে স্বর্ণচূড়ার ন্যায় সোনালী অলংকারে সৌন্দর্য বিলিয়ে নিশ্চুপ ভাবে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি রাঙানো সোনালু।

তবে এক সময় সোনালু গাছ কুমিল্লার প্রকৃতিতে অনেক বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। সোনালু গাছের কাঠ তেমন গুরুত্ব বহন না করায় এবং গাছটি খুব ধীরগতিতে বেড়ে উঠায় এই গাছ রোপণে আগ্রহ নেই কারও। প্রকৃতিকে সাজাতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান পরিবেশবিদরা।